শাবিপ্রবিতে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতাদের ‘মারধর’
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।
গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারেক রহমান।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকারের অভিযোগ, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হল প্রভোস্টকে মেনশন করে হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন। পরে ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান তাকে ডেকে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন।
খাইরুল আরও জানান, ওই দিন রাতেই আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি নতুন করে অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এর পরপরই হাসিবুর রহমান তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক রহমান মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রভোস্ট কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গেলে খাইরুল তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায়, হাতে আঘাত লাগে এবং তার মোবাইল ফোনও নষ্ট হয়।
এ বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাউকে মারধরের নির্দেশ বা এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের মদদ তিনি দেননি। হলের যেকোনো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে তিনি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন এবং তার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।
এদিকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।



















