img

কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে সেতু ও শতাধিক বসতঘর

প্রকাশিত :  ১৬:৩৫, ১৯ জুলাই ২০২৬

কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে সেতু ও শতাধিক বসতঘর

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটননগরী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভা এলাকার ভানুগাছ বাজারসংলগ্ন ধলাই নদীর সেতুর নিচসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সেতুসহ আশপাশের শতাধিক বসতঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, কমলগঞ্জ থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ধলাই নদীর সেতুর নিচে প্রকাশ্যেই বালু উত্তোলন চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

দৈনিক ইত্তেফাক এর কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মো. নুরুল মোহাইমীন মিল্টনের ভাষ্য, ধলাই নদীর সেতুর নিচসহ লিজবহির্ভূত আরও কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরসংলগ্ন শতাধিক বসতঘর, সেতু এবং প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মো. নুরুল মোহাইমীন মিল্টন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওসহ একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র তুলে ধরেন। পোস্টটিতে অসংখ্য দর্শক মন্তব্য করে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে ধলাই নদীর ওপর নির্মিত সেতু এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ধলাই নদী, নদীতীরবর্তী জনপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

প্রকাশিত :  ১১:১৪, ২০ জুলাই ২০২৬

দেশের তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সিলেটের খবর এর আরও খবর