শ্রীমঙ্গলে ৮০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ, অধরাই থেকে যাচ্ছে 'গডফাদার'রা
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—অভিযানের আগেই কীভাবে তথ্য ফাঁস হয় এবং কেন বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান এই অবৈধ ব্যবসার অর্থের জোগানদাতা ও প্রভাবশালী গডফাদাররা?
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কের ৫ নম্বর সেতুর উত্তর পাশের ভাড়াউড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছড়ার অপর পাড় দিয়ে পালিয়ে যান। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালুর পাশাপাশি বেলচা, টুকরি, স্ট্যান্ডসহ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব মালামাল পরবর্তী সময়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
অভিযানের তথ্য ও জব্দ করা বালুর ছবি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ‘উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল’ এবং ‘এসি ল্যান্ড শ্রীমঙ্গল’ নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযানে ট্রাক, বালুবাহী যানবাহন, চালক, সহকারী ও শ্রমিকদের আটক করা হলেও এই অবৈধ বাণিজ্যের মূল অর্থদাতা কিংবা প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিবারই রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রায় প্রতিটি অভিযানের আগে কীভাবে অভিযুক্তরা প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে যায়? অভিযানের তথ্য কোথা থেকে ফাঁস হচ্ছে? আর যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
তাঁদের মতে, শুধু বালু বা সরঞ্জাম জব্দ করেই অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই চক্রের অর্থদাতা ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে অভিযান চললেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। ফলে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত এবং মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।



















