img

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুজনকে খালাস

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

 সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুজনকে খালাস

সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় প্রদান করা হলো।

রায় প্রদানের তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার।

ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সাথে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করতে দুদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ৮০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ, অধরাই থেকে যাচ্ছে \'গডফাদার\'রা

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—অভিযানের আগেই কীভাবে তথ্য ফাঁস হয় এবং কেন বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান এই অবৈধ ব্যবসার অর্থের জোগানদাতা ও প্রভাবশালী গডফাদাররা?

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কের ৫ নম্বর সেতুর উত্তর পাশের ভাড়াউড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ছড়ার অপর পাড় দিয়ে পালিয়ে যান। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানে প্রায় ৮০০ ঘনফুট বালুর পাশাপাশি বেলচা, টুকরি, স্ট্যান্ডসহ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব মালামাল পরবর্তী সময়ে নিষ্পত্তি করা হবে।

অভিযানের তথ্য ও জব্দ করা বালুর ছবি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ‘উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল’ এবং ‘এসি ল্যান্ড শ্রীমঙ্গল’ নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযানে ট্রাক, বালুবাহী যানবাহন, চালক, সহকারী ও শ্রমিকদের আটক করা হলেও এই অবৈধ বাণিজ্যের মূল অর্থদাতা কিংবা প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব কমই দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিবারই রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রায় প্রতিটি অভিযানের আগে কীভাবে অভিযুক্তরা প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে যায়? অভিযানের তথ্য কোথা থেকে ফাঁস হচ্ছে? আর যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

তাঁদের মতে, শুধু বালু বা সরঞ্জাম জব্দ করেই অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই চক্রের অর্থদাতা ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে অভিযান চললেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। ফলে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত এবং মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর