শ্রীমঙ্গলে কাপড়ের আলনার ড্রয়ারে প্রাণঘাতী পদ্ম গোখরা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা শ্রমিকের বসতঘরের কাপড়ের আলনার ড্রয়ার থেকে একটি প্রাণঘাতী বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরেশ নায়েকের ঘরের কাপড়ের আলনায় থাকা একটি ড্রয়ারের ভেতর সাপটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের সবাই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। পরে সুরেশ নায়েক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা কাপড়ের আলনার ড্রয়ারের ভেতর সাপটির অবস্থান দেখতে পান। পরে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা সাপটি পদ্ম গোখরা। এটি বিষধর ও প্রাণঘাতী সাপ।
এর আগের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একই উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের শ্রমিক কলোনির স্থানীয় বাসিন্দা সুসেন মুন্ডার বসতঘর থেকেও একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়।
পরপর দুই দিনে একই এলাকার বসতঘর থেকে বিষধর সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শুধু ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগান নয়, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিষধর সাপ ও বড় আকৃতির অজগর উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিষধর সাপ ও বিশাল আকৃতির অজগরসহ মোট ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসেও সাপ উদ্ধারের ঘটনা কমেনি। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিষধর সাপসহ বড় আকৃতির অজগর উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, বসতঘর, কাপড় রাখার আলনা কিংবা অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রীর ভেতর থেকে সাপ বেরিয়ে আসায় তাঁদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিগুলোতে ঘনবসতি ও আশপাশের ঝোপঝাড় থাকায় সাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো পশুপাখি ধরা পড়লে কিংবা কোনো প্রাণীকে আহত বা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকেও খবর দিতে বলা হয়েছে।



















