img

শ্রীমঙ্গলে কলার ছড়ির ভেতর খয়েরী ফণিমনসা সাপ

প্রকাশিত :  ১০:১৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে কলার ছড়ির ভেতর খয়েরী ফণিমনসা সাপ
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি কলার আড়তে কলার ছড়ির ভেতর থেকে খয়েরী ফণিমনসা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয়রা সাপটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের একটি কলার আড়তে রাখা কলার ছড়ির ভেতর হঠাৎ সাপটি দেখতে পান সেখানে থাকা লোকজন। সাপটি দেখে আড়তে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খয়েরী ফণিমনসা সাপ। পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ফোন পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিত সাপ উদ্ধার করছেন। গত আগস্ট মাসে বিষধর সাপ ও বিশাল আকৃতির অজগরসহ মোট ১৭টি সাপ উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনাঞ্চল ছেড়ে সাপ লোকালয়ে চলে আসায় সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট এবং খাদ্যের সন্ধানে সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বলে তাঁরা জানান।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা সাপ উদ্ধারে কাজ করা সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত। এতে একদিকে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীও রক্ষা পাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনা থেকে ১৪ ফুটের অজগর উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশিত :  ১০:৪১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়ির আঙিনা থেকে ২৩ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট। বিশাল আকৃতির অজগরটি লোকালয়ে চলে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সিরাজনগর লামুয়া এলাকায় কদর আলী মেম্বারের বাড়ির আঙিনায় অজগরটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ ফোন করে বিষয়টি ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চাউতলি বিট কর্মকর্তা সুব্রত সরকার।

পরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অজগরটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে অজগরটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের সময় অজগরটির শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাপটির বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে আরও জানা যায়, গত আগস্ট মাসে বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বড় আকৃতির অজগরসহ ১৭টি সাপ উদ্ধার করেছে। পরে সেগুলো স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একের পর এক বড় আকৃতির অজগরসহ বিষধর সাপ লোকালয়ের আশপাশে চলে আসায় শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাড়ির আঙিনা, ঝোপঝাড় ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় সাপের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত তাঁদের ফোন করে জানাতে হবে। খবর পেলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এতে সাপের লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর