img

টাঙ্গুয়ার হাওরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পর্যটকের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১০:১৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 টাঙ্গুয়ার হাওরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পর্যটকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আশিষ কুমার রায় (৫১) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ট্যাকেরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আশিষ কুমার রায় মাগুরা সদর উপজেলার ছোট দোয়ারপাড়া শাহাপাড়া এলাকার প্রফুল্ল রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন আর্টিস্ট ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ছয়জন পর্যটক ‘হৈমন্তী’ নামে একটি হাউসবোটে করে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান। দিনভর হাওরে ঘোরাঘুরি ও গোসল শেষে বিকেলে তারা ট্যাকেরঘাট নৌকা ঘাটে যান। পরে সবাই শহীদ সিরাজ লেক এলাকায় ঘুরতে বের হন।

মাগরিবের নামাজের আগে শহীদ সিরাজ লেক এলাকা থেকে ট্যাকেরঘাটের দিকে যাওয়ার সময় আশিষ কুমার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্পিডবোটে করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘হৈমন্তী’ হাউসবোটের ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ছয়জন পর্যটক তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজার নৌকা ঘাট থেকে হাউসবোটে ওঠেন। সারাদিন টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে বিকেলে ট্যাকেরঘাটে যান। পরে শহীদ সিরাজ লেক এলাকা ঘুরে ট্যাকেরঘাটে ফেরার সময় আশিষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

নিহতের সঙ্গে আসা বন্ধু রাজ শেখর বণিক বলেন, ‘বিকেলে আমরা সবাই শহীদ সিরাজ লেক এলাকার ছোট ছোট টিলায় উঠে আশপাশে ঘোরাঘুরি করি। পরে পাঁচজন বন্ধু একসঙ্গে হলেও আশিষকে দেখতে না পেয়ে তাকে কল করি কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার ফোন থেকেই আমাদের কাছে কল আসে। তখন জানতে পারি, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসক দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএফপিও ডা. নওশাদ আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।’

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর