img

সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে চুন ঢেলে তিনজনের চোখ নষ্ট, ভেঙে দেওয়া হলো একজনের পা

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে চুন ঢেলে তিনজনের চোখ নষ্ট, ভেঙে দেওয়া হলো একজনের পা

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে দেওয়া ও তিনজনের চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুটি গরুসহ একজনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে আরও দুজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। পরে সকালে বাংলাবাজারের কাছে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে তাদের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন—দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) ও ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)। মাটিতে ফেলে তিনজনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আটক তিনজন মাটিতে পড়ে আছেন। তাদের শরীর অনাবৃত এবং নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো। একজনের পা রক্তাক্ত। এ সময় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশকেও পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি করেন ছাতকের সোনাই মিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজনের হাতে দুটি গরুসহ আটক হন তিনি। পরে তার তথ্যে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে আটক করে এলাকার লোকজন। সকালে খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিসে বসেন।

স্থানীয় শালীশ বৈঠকে বিএনপির নেতা মোরশেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, জাকির হোসেন, রতন মিয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনের চোখ চুন দিয়ে গালানো হয়। আবু বাক্করের একটি পাও ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরে উপস্থিতরা তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

সালিশে উপস্থিতরা জানান, সালিশ চলাকালে তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। তিনজনের চোখে চুন ঢুকিয়ে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার এবং গরু দুটি জব্দ করে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম বলেন, চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গরু চুরি হয়, মসজিদের মাইকের ব্যাটারি ও আইপিএসও চুরি হয়। আজকে এক চোরকে গরুসহ ধরে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। চোরদের পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিস বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে—চোর ধরা পড়লে সাথে সাথে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিস বোর্ড তা দেখবে।

ইউপি সদস্য হানিফ আলী বলেন, আমি এখন থানায় আছি, পরে ফোন দিন। এ বলেই তিনি সংযোগ কেটে দেন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থানীয়দের হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর