img

শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজন গ্রেপ্তার, পাজেরো জব্দ

প্রকাশিত :  ১১:১২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজন গ্রেপ্তার, পাজেরো জব্দ

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের পাজেরো জিপ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কালীঘাট ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া চা-বাগান এলাকার বিটিআরআই সড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল থানার খোশবাস গ্রামের মো. ছাদ মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮), কুলাউড়া থানার বিলেরপাড় (পশ্চিম বিলেরপাড়) এলাকার মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে সালাউদ্দিন (২৯) এবং শ্রীমঙ্গল থানার শংকরসেনা (শিববাড়ী) এলাকার মো. আবদুল করিমের ছেলে মো. আলী হোসেন (৩৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্স নিয়ে ভোরে বিটিআরআই সড়কে অভিযান চালান। এ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি রামদা, একটি লোহার তৈরি বোল্ট কাটার ও একটি স্টিলের এসএস রড উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের পাজেরো জিপও জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা করেছে। মামলার সঙ্গে জড়িত পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর