img

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘নির্দেশে’ মামলা যাচ্ছে পিবিআইতে!

প্রকাশিত :  ০৬:৫৭, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘নির্দেশে’ মামলা যাচ্ছে পিবিআইতে!

সিলেটের রায়নগরের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরকালে নিহত সাত্তার দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু স্বজনদের নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এসময় মন্ত্রী তাদেরকে সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পক্ষপাত মুক্ত তদন্ত হবে। তার এমন আশ্বাসে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের ব্যাপারে আশায় বুক বাঁধেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, ওই দিন সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি তুলে ধরেন সিলেট-৬ আসনের সাংসদ ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছ থেকে মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন ও দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।মানচিত্র

পরে ঢাকায় ফেরার পথে আবারও বিষয়টি তার সামনে তুলে ধরেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তখন মন্ত্রী পুলিশ মহাপরিদর্শককে কল দিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে গেল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেরা নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বলেছেন সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির দুই মেয়ে।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়ার বিষয়ে জানতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন ব্যবসায়ী সাত্তার এমএ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের গৃহকর্মী। ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় রঙ মিস্ত্রি বাবুলকে। তিনি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধীতে জানিয়েছেন টাকার জন্য চুরি করতে গিয়ে তাদেরকে খুন করেছেন। তবে তার এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় নিহতদের স্বজনরা। তারা এর নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরছেন। এমনকি, মরহুম সাত্তারের মেয়ে সুরাইয়া বাদী হয়ে থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন সেখানেও সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে নানা আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

প্রকাশিত :  ২০:১৩, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের অন্যতম পর্যটননগরী ও ‘চায়ের স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নানা ধর্মীয় ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষে শহরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভক্তদের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এ বছর (২০২৬ সালে) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে সার্বজনীন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংকীর্তন ও সম্প্রীতি সমাবেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি অজয় কুমার দেব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. হরিপদ রায়, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাশ রিংকু, সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ নূরুল আলম সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইয়াকুব আলী, ডা. প্রদীপ লাল বণিক, সমাজসেবক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুমন রায়, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অলক কান্তি পালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও ভক্তরা অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতের সুরে শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে শ্রীমঙ্গল শহরের প্রধান সড়কগুলোও যেন প্রাণ ফিরে পায়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

আয়োজকেরা জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনা, সংকীর্তনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ, মানবতা, ন্যায়, সত্য ও সম্প্রীতির বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষাকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


সিলেটের খবর এর আরও খবর