img

মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি: সিলেটগামী বিমান ফিরে আসলো ঢাকায়

প্রকাশিত :  ২০:২১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:৩০, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি: সিলেটগামী বিমান ফিরে আসলো ঢাকায়

ঢাকা থেকে সিলেটমুখী বিমানের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নরত অবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে সিলেটগামী ওই ফ্লাইটটি মাঝ আকাশ থেকে আবার ঢাকায় ফিরে আসে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে এমন ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে অবশ্য বিমানের অন্য একটি ফ্লাইটে যাত্রীদের ঢাকা থেকে সিলেট নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, সোমবার সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা করে বিমানের একটি ফ্লাইট। কিছু পথ আসার পর বিমানের হঠাৎ ঝাঁকুনি দেখা দেয়। তখন একজন বিমানবালা যাত্রীদের জানান, উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফ্লাইটটি আবার ঢাকায় ফিরে যাবে।

এ ফ্লাইটে ২৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন। তিনি বিমান থেকে নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

ওই ভিডিওতে একজন বিমানবালাকে যাত্রীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, টেক অফের পর আপনারা নিশ্চয়ই একটা শব্দ শুনেছেন। সুতরাং ক্যাপ্টেন কোন রিক্স নেননি। তাই আমরা ঢাকায় ব্যাক করছি।

এ সময় অনেক যাত্রীকে বিমানের দুরাবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করতে শোনা যান।

এক যাত্রী বলেন, আমি একজন চালক। আমি বিমানে ওঠে শব্দ শুনেই কোন একটা সমস্যা আছে বুঝতে পেরেছি। বিমানের কেউ কেন আগে তা বুঝেনি। কেন মাঝ আকাশে এনে আমাদের সবার জীবনকে এভাবে ঝুঁকিতে ফেলা হলো?

এ ব্যপারে সোমবার রাতে ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন সিলেটটুডেকে বলেন, বিমানের ফ্লাইট যখন আকাশে তখন যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানানো হয়। পরে ফ্লাইটটি আবার ঢাকায় ফিরে যায়। এরপর বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অন্য একটি ফ্লাইটে আমাদের আনা হয়। সোয়া ১ টার দিকে আমরা সিলেট এসে পৌঁছি।

এ ব্যাপারে বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এরআগে রোববার দুবাই থেকে সিলেটমুখী বিমানের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ওই ফ্লাইটটি রোববার সকালে সিলেট আসর কথা থাকলেও আসে মধ্যরাতে। দীর্ঘক্ষণ যাত্রীদের বিমনবন্দরে প্রায় অভুক্ত রাখা হয় বলে জানা গেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর