img

৩৯ বছর একই বিদ্যালয়ে, ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায়

প্রকাশিত :  ০৯:৫৯, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

৩৯ বছর একই বিদ্যালয়ে, ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায়

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেবকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সোমবার ( ১৭ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী বিদায়যাত্রায় সামনে ও পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর। সঙ্গে ছিল শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা। প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁকে।

প্রায় চার দশক আগে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বেলা রানী দেব, কর্মজীবনের পুরো সময়টাই কেটেছে সেখানেই। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর ৩৯ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি পড়িয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর হাতেখড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে প্রিয় শিক্ষিকাকে স্মরণীয় বিদায় দিতে তাই ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেন তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরে শুরু হয় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি। বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠ বৃষ্টির পানিতে কাদায় থকথকে হয়ে গেলেও থামেনি আয়োজন। পানি সরাতে নালা কাটা থেকে শুরু করে নানা ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। প্যান্ডেলের নিচে সাজানো হয় চেয়ার, তৈরি করা হয় মঞ্চ। আর বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছেই রাখা হয় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িটি।

একপর্যায়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান বেলা রানী দেব। তাঁকে দেখেই ছুটে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ জড়িয়ে ধরেন, কেউ সালাম দেন। নারী অভিভাবকদের অনেকে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিদায়ের অনুষ্ঠান হলেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগে ভরা।

ফুল, উপহার আর স্মৃতিচারণ

বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকর্মী ও অতিথিরা যোগ দেন আয়োজনে। স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান এবং অন্যতম আয়োজক তুহিন জুবায়ের।

অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেবকে ফুল ও নানা উপহার দেওয়া হয়। শেষ দিকে শিশুশিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে ফুলের মালা, আবার কারও হাতে ছোট-বড় রঙিন বাক্স। দল বেঁধে কিংবা একা এসে তারা প্রিয় শিক্ষিকার হাতে উপহার তুলে দেয়। সহকর্মী ও অভিভাবকেরাও তাঁকে উপহার দেন।

‘ভালো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মনে রাখে’

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান বলেন, ‘ভালো শিক্ষকের নির্দেশক (ইন্ডিকেটর) হচ্ছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু মনে থাকে এক-দুজনকে। শিক্ষার্থীরা ওই এক-দুজনকেই স্মরণ করেন। বেলা রানী দেব তাঁর কাজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।’

সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তাঁকে দিদিমণি ডাকি। আমরা তাঁর কাছে পড়েছি, আমাদের সিনিয়ররা পড়েছেন। শৈশব থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। এত দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা আমাদের দায় থেকে এই আয়োজন করেছি। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো কর্তব্য মনে করেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল এমন কিছু করা, যাতে অবসর সময়ে এই স্মৃতিটুকু মনে করে তিনি আনন্দ পান, ভালো থাকেন।’

বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং রাজনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার, মেহজাবীন আক্তার ও জান্নাত আক্তারও এসেছিল প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানাতে। তারা জানায়, বেলা রানী দেব খুব আনন্দ দিয়ে পড়াতেন। পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি।

‘এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো’

বেলা রানী দেবের বাড়ি বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামে। তাঁর স্বামী রবীন্দ্র লাল দেব সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। মেয়ে এখন মায়ের সেই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

একই বিদ্যালয়ে ৩৯ বছরের বেশি সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী দেশে-বিদেশে। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এত আন্তরিক—এটা আমি আগে বুঝিনি। এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো, পরিবারের মতো।’

একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শুরুতে যারা শিক্ষার্থী ছিল, তাদের সন্তানকে পড়িয়েছি। আজকের যে আয়োজন, এতে কত যে আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

কথা বলতে বলতে ভারী হয়ে আসে তাঁর গলা। চোখে জমে ওঠে অশ্রু। দীর্ঘ ৩৯ বছরের বেশি সময়ের স্মৃতি, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা এবং পরিচিত বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট যেন তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর চোখে-মুখে।

শেষযাত্রায় রঙিন ধোঁয়া, সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা

এরপর আসে বিদায়ের সেই মুহূর্ত। বিদ্যালয় ভবন থেকে বেলা রানী দেব বের হওয়ার পথে দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ড্রাম ও বাদ্যের তালে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে। নানা রঙের ধোঁয়ায় ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার পথটি হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল।

রকিং চেয়ারে বসিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে তুলে দেওয়া হয় অপেক্ষমাণ সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে। ঘোড়ার গাড়ির সামনে ও পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর। পেছনে যুক্ত হয় শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা।

ঘোড়ার গাড়িতে বসে হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে বিদায় জানান বেলা রানী দেব। তাঁকে নিয়ে গাড়িটি এগিয়ে চলে উত্তর নন্দীউড়ার বাড়ির দিকে। প্রায় চার কিলোমিটার পথজুড়ে তৈরি হয় ব্যতিক্রমী এক বিদায়যাত্রা।

এই পথ তাঁর অপরিচিত নয়। এত বছর এই পথ দিয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেছেন তিনি। তবে এবার সেই পথে যাত্রার অর্থ ছিল ভিন্ন। আর নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে তাঁকে এই পথে বিদ্যালয়ে ফিরতে হবে না।

১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যে বিদ্যালয়ে পা রেখেছিলেন বেলা রানী দেব, ৩৯ বছরের বেশি সময় পর সেখান থেকেই নিলেন বিদায়। মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে শিক্ষার্থীদের মুখ, বদলেছে সময়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর জায়গাটি বদলায়নি।

তাই তাঁর বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন যেন শুধু একটি ঘোড়ার গাড়ির যাত্রা ছিল না। এটি ছিল শৈশবের শিক্ষককে ফিরে দেখা, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের প্রতি সম্মান জানানোর এক আবেগঘন প্রকাশ।

বেলা রানী দেব অবসরে গেছেন। শেষ হয়েছে তাঁর নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদান। কিন্তু বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর শেখানো পাঠ, স্নেহ ও স্মৃতি থেকে যাবে। ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সেই বিকেলটিও হয়তো তাঁর মতোই তাঁদের মনে থেকে যাবে—একজন প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসার অনন্য স্মৃতি হয়ে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন: অভিযানে যুবকের কারাদণ্ড, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত :  ১৪:৩৮, ১৭ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৪০, ১৭ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৭ আগস্ট) পরিচালিত অভিযানে বালু উত্তোলনের দায়ে মো. ছাতির মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় আরেকটি এলাকায় বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়ার রুপশপুর এলাকার চিড়িয়াখানা রোডে অভিযান চালান শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। প্রশাসনের অভিযান টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা ছড়ার অপর পাশ দিয়ে পালিয়ে যান। এ কারণে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো দণ্ডও দেওয়া যায়নি। তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এরপর মৌলভীবাজার রোডের ৫ নম্বর পুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় মো. ছাতির মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছে, জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছড়ায় ছড়ায় বালু উত্তোলন

শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ি ছড়া ও ছোট নদীর সংখ্যা প্রায় ৩৭টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ছড়ার বেশির ভাগ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী শ্রমিক, ট্রাকচালক ও সহকারীদের কাজে লাগিয়ে এসব বালু উত্তোলন করে দূরদূরান্তে সরবরাহ করে আসছে। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন এখানে দীর্ঘদিন ধরেই একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, প্রশাসনের অভিযান কিংবা কোনো দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবার তা শুরু হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বালু পরিবহনের কারণে সড়কেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অতীতে ভূনবীর ও সিন্দুরখান ইউনিয়নে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধা, এক শিশু কন্যা ও এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযানে ধরা পড়েন যারা, আড়ালে থাকেন মূল হোতারা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শ্রমিক, ট্রাকচালক ও সহকারীরাই আটক হন। কিন্তু এর অর্থের জোগানদাতা বা মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই আবার আগের মতো বালু উত্তোলন শুরু হয়।

অভিযানের খবর আগেই কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায়, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অভিযান শুরুর খবর আগেভাগে পেয়েই অনেক সময় মূল ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে সেখানে থাকা শ্রমিক বা পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারও কারও বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত ওই সাংবাদিকের পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে কি না, হলেও তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু শ্রমিক বা ট্রাকচালকদের আটক করে অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর সঙ্গে কারা অর্থের জোগান দিচ্ছেন, কারা বালু উত্তোলন ও পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং কারা এর পেছনে রয়েছেন—তাঁদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাঁদের মতে, নিয়মিত অভিযান, মূল হোতাদের শনাক্তকরণ এবং অবৈধ বালু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শ্রীমঙ্গলের ছড়া ও নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর