img

শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ১০ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন

সংগ্রাম দত্ত: আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়াসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, পূর্বপুরুষের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়েছে।

‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ রোববার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফিতা কেটে র‍্যালির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফিরে আসে। পরে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। ভূমি দখল, উচ্ছেদের চেষ্টা ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, পূর্বপুরুষের ভূমি, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চা-বাগানে বসবাসরত স্বীকৃতির বাইরে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি এবং চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে।

বক্তারা জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এবং আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুসমর্থন ও কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, নিরালা পুঞ্জির মান্ত্রী এলভিস পতাম, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী ফিলা পতমী, বাংলাদেশ আদিবাসী লেখক পরিষদের সভাপতি হামোম সনাতন, শ্রী চুক গারো যুব সংগঠনের সভাপতি পার্থ হাজং এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের সভাপতি স্বপন কুর্মী প্রমুখ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর