img

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮

প্রকাশিত :  ০৭:২৮, ০৭ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪২, ০৭ আগষ্ট ২০২৬

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। 

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ওসমানীনগরের দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।

ওসি আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।

আহতদের বেশির ভাগও একই বাসের যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুজনকে খালাস

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় প্রদান করা হলো।

রায় প্রদানের তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার।

ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সাথে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করতে দুদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর