img

গোলাপগঞ্জে জমি থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৯:৩৯, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 গোলাপগঞ্জে জমি থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলাস্থ বাগিরঘাট গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতের জমি থেকে আসিদ আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আসিদ আলী বাগিরঘাট গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে ওই বৃদ্ধ নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় বুধবারীবাজারে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল থেকে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। সন্ধান না পেয়ে আজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার খোঁজ পেতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এসআই সজল চন্দ্র দাশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বৃদ্ধের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।

কোথাও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেলের দিকে বাড়ির পাশের ক্ষেতের জমিতে ঘাস দিয়ে ঢাকা অবস্থায় বৃদ্ধের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিখোঁজ বৃদ্ধের লাশ পাওয়ার খবরে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি ছবেদ আলী, এসআই সজল চন্দ্র দাশসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তারা জানান, বৃদ্ধকে হত্যা করে ক্ষেতের জমিতে ফেলে ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন আলামত এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের দিকেই নির্দেশ করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি ছবেদ আলী জানান, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ অনেক নেতার

প্রকাশিত :  ১০:১৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের করেছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনেক শীর্ষ নেতা। যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া ও এককভাবে সংবর্ধনা আয়োজনের অভিযোগ এনে দলটির ডজনখানেক শীর্ষ নেতা সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি।

এরমধ্যে সিলেট মহানগর বিএনপি ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করে। বাকীরা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি।

মঙ্গলবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নগরভবনে রাষ্ট্রপতিকে এ নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বর্জনকারী নেতাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনা আয়োজন এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি।

বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিকে ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ বলা হলেও প্রকৃত অর্থে এটি কোনো নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আয়োজিত সংবর্ধনা নয়। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে তারা বলেন, এটি সিসিকের অনুষ্ঠান এবং আয়োজনটি একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক, সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মৌলভীবাজার জেলার বিএনপির নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাননি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা।

তাঁদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৃহত্তর সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি নাগরিক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলছেন, এটাকে নাগরিক সংবর্ধনা বলা যায় না। এটা সিসিকের সংবর্ধনা। এই প্রোগ্রামটি একক ব্যক্তির প্রোগ্রাম। মহানগরের ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল নেতাকর্মী এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপির কোনো নেতার সাথে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তারা জানান, আজকে রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময়ে এমন একটি গাড়ি মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য দেওয়া হয় যেটি মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের পাস ছিল না। ফলে গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সিনিয়র নেতাদের হেঁটেই মাজারে যেতে হয়। এসব কারণে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। কারণগুলো এখনই বলছি না। তবে সংবর্ধনা ছাড়া রাষ্ট্রপতির বাকি সব অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছি।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অনেকেই যাননি। আমিও যাইনি।’

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন, সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সাথে কথা বলেছি।

তবে মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ কারণেও সিটি করপোরেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়নি বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার এক দিনের সফরে সিলেটে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তিনি সিলেট সফর করেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর