img

সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৩:৪৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার উদ্বোধন

সংগ্রাম দত্ত: নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও নৃত্যম নৃত্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক মুনমুন আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট অলক চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, নারী ও শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান শামীম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজা ফেরদৌস লিপন, লোকদল শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিধান বণিক, প্রশিক্ষক শামীম আশরাফ, শ্রাবন্তী পুরকায়স্থ, সামীর পল্লব, রিপন চন্দ ও অহনা এষ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সঞ্চালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য প্রশিক্ষক মুনমুন আহমেদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জ সাংস্কৃতিক শহর, হাসনের শহর, রাধারমনের শহর। এখানে নাচের প্রশিক্ষণ দিতে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি এ রকম আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই সারা বাংলাদেশের যারা নাচের শিক্ষার্থী, তারা নাচ শিখতে চায় এবং একটু যদি নাচের টেকনিক ও নাচের কিছু ভালো দিকগুলো দিতে পারি এবং তারা যদি মনোযোগী হয়, নাচের জগতে এগিয়ে যাবে। আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা, আমি সবটুকু দিয়ে যাব। আমি সেই আশার আলো নিয়ে এসেছি এবং তাদের মাঝে আমি আমার প্রতিফলন দেখতে চাই।’

মুনমুন আহমেদ আরও বলেন, নতুন নতুন যোগ্য নৃত্যশিল্পী গড়ে উঠুক—দুই দিনের এই প্রশিক্ষণে তাঁর এমনই প্রত্যাশা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নৃত্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেন মুনমুন আহমেদ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর