img

কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা যুবতিকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত :  ১৪:১৭, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা যুবতিকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
সিলেট জেলার কানাইঘাটে ভারত থেকে আসা ২২বছরের এক নারীকে ১০দিন আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে ১জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় কানাইঘাট থানা পুলিশের অভিযানে নাঈম উদ্দিন (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। নাঈম ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার ২নং আসামি ও উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের দনাপাত্তি ছড়া গ্রামের আব্দুর রহমান ডালু মিয়ার পুত্র।

ভিকটিমকে থানা পুলিশ হেফজতে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে যায়, শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ওই নারী ৯মাস পূর্বে নিজ বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী বর্ডার হয়ে ভারতের হায়দ্রাবাদে যায়। সেখানে কাপড়ের ব্যবসা করেন। গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামের তার এক মামার সহায়তায় বাংলাদেশে আসার জন্য হায়দ্রাবাদ হতে ভারতের সীমান্তবর্তী নন্দনপুর এলাকায় আসে। এ সময় ভারতীয় বিএসএফ তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে নিয়ে যায় এবং মেয়েটির কান্নাকাটির কারনে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ।

ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র শানুর আহমদ (৩০), আব্দুর রহমান ডালুর পুত্র নাঈম উদ্দিন (২২), শাহনুর আলীর পুত্র কাওছার আহমদ(৩০), দনা রাঙ্গিছড়া গ্রামের মঈন উদ্দিনের পুত্র হুসাইন আহমদ (২৪), কুতুব আলীর পুত্র রিয়াজ উদ্দিন (৩০), দনা রাতাছড়া গ্রামের ছলু মিয়ার পুত্র ইকবাল আহমদ (২৮)’র সাথে ওই নারীর দেখা হয়।

তারা মেয়েটিকে নিজবাড়ি শেরপুরে পৌছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শানুরের নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রায় ১০দিন আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় উদ্ধার হলে ওই নারী বুধবার কানাইঘাট থানায় এসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের সাথে সাথে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় বুধবার ভোর রাতে পুলিশ দুর্গম পাহাড়ী দনা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। নাঈমকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানার ওসি জানিয়েছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক নিহত, আটক ২

প্রকাশিত :  ১৩:৩৪, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১২, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল মান্নান (৪০) নামে এক ইজিবাইকচালক (টমটম) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ডাম্প ট্রাকের চালক জোনায়েদ (২৬) ও চালকের সহকারী (হেলপার) রানা মিয়াকে (৩০) আটক করেছে সাতগাঁও হাইওয়ে থানা-পুলিশ। দুর্ঘটনায় জড়িত ডাম্প ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডের সুরমাভ্যালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মান্নান শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুর আটঘর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সিন্দুরখান রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকচালক আব্দুল মান্নান গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর পা গুরুতর জখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলে গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকেন।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।’

সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ট্রাকের ধাক্কায় আহত টমটমচালক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় ডাম্প ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে এবং ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করে হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ ঘটনায় হাইওয়ে থানা দুজনকে আটক করেছে। শ্রীমঙ্গল থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিলেটের খবর এর আরও খবর