img

শ্রীমঙ্গলে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 শ্রীমঙ্গলে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে লেবার হাউসের সড়কে আন্দোলনকারীদের উপর চা শ্রমিক নেতাদের হামলার অভিযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মধ্যে দুই থেকে তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন শেষে লেবার হাউসের দিকে র‍্যালি নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানি কানু অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রথমে র‍্যালি নিয়ে ডিডিএল ও ইউএনও অফিসের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। এমনকি এই বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের সামনে দিয়ে র‍্যালী করে সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, তারা আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর শুরু করে। এটি প্রথমবার নয়, দ্বিতীয়বারের মতো তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।

গীতা রানি কানু আরও বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি দাবি করা যদি আমাদের অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদ বলেন, তাঁরা বিভিন্ন চা বাগানে প্রচারণা চালিয়ে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনার সামনে বড় মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। কর্মসূচি শেষে তাঁরা র‍্যালি নিয়ে লেবার হাউসের সামনে যান। রাস্তা পার হয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে আবার ফেরার সময় পরেশ কালিন্দি, বিজয় হাজরাসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

আকাশ দোষাদ বলেন, তারা আমাদের ধরে লেবার হাউসের গেটের সামনে নিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনার যথেষ্ট ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে পুলিশ অবস্থান করলেও আমাদের কেউ বাচায় নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে চা শ্রমিক নেতা দুলাল হাজরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী ও নেতা সুবাস রবিদাস আন্দোলনকারীদের ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের গেইটে নিয়ে আসেন। এরপর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, সুমন হাজরা ও সুমন তাঁতীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীদের ধরে মারধর শুরু করেন।

তিনি দাবি করেন, হামলায় তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জনকলাল দেশোয়ারা, রাধামোহন নুনিয়া, গীতা রানী কানুকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি করায় মালিকপক্ষের দালাল চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের একটি অংশ তাঁদের ওপর হামলা করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পরেশ কালিন্দি দাবি করেন, মানববন্ধন শেষে একটি পক্ষ লেবার হাউসের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও গালাগাল করে। ওই সময় তাঁরা ভবনের ওপরের তলায় একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। পরে ওই পক্ষ নিচে নেমে বাইরে আসার সময় রাস্তা পার হয়ে চলে যায়।

পরেশ কালিন্দির দাবি, অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের পর তাঁদের লোকজন ধাওয়া দিলে ওই পক্ষ পালিয়ে যায়। পুলিশের সামনে কাউকে ধরে এনে মারধরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ব্যানার ছেঁড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই পক্ষ রাস্তার ওপারে যাওয়ার সময় তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এরপর তাঁর লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করে বাইরে বের হন। তবে অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন চা শ্রমিক নেতা আন্দোলনকারীদের ধরে ধরে মারধর করছেন। ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। বরং কর্মসূচি শেষে তাঁদের রাস্তার ওপারে চলে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, চা শ্রমিক নেতাদের কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ধরে ফেলেন। এ সময় তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা যায়। ঘটনাটি পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গীতা রানী কানুসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তাঁরা লেবার অফিসের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল দল রয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

বিদ্যুতের লুকোচুরিতে মৌলভীবাজারের চা শিল্পে শঙ্কা, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

প্রকাশিত :  ১৬:১৭, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:২০, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: ভরা মৌসুমে মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে এখন ব্যস্ততা চরমে। ভোরের আলো ফুটতেই শ্রমিকেরা ছুটছেন সারি সারি চাগাছের দিকে। কচি দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করে দ্রুত তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কারখানায়। কিন্তু কারখানায় কাঁচা পাতা পৌঁছানোর পরই শুরু হচ্ছে নতুন সংকট—বিদ্যুতের লুকোচুরি।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে জেলার চা কারখানাগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ। সময়মতো পাতা শুকানো, রোলিং, জারণ ও পুনরায় শুকানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়, ফলে বাড়ছে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ।

মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় ৯৩টি চা-বাগান রয়েছে। বছরের এই সময়টি চা উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। এ সময়ে বাগান থেকে পাতা সংগ্রহের পর দ্রুত কারখানায় নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে পাতার স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো চা উৎপাদন ব্যবস্থায়।

চা কারখানায় কাঁচা পাতা পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও সময় মেনে কয়েকটি ধাপে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রথমে পাতাকে শুকানো হয়। এরপর রোলিং মেশিনে পাতা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে জারণ প্রক্রিয়া শেষে আবারও শুকানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিই যন্ত্রনির্ভর। ফলে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মাঝপথে থেমে যাচ্ছে উৎপাদন। আবার বিদ্যুৎ ফিরে এলে মেশিন চালু করতে সময় লাগছে। এতে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান যন্ত্রপাতির ওপরও বাড়তি চাপ পড়ছে।

চা-বাগান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক সময় জেনারেটর ব্যবহার ছাড়া বিকল্প থাকছে না। কিন্তু জেনারেটরে উৎপাদন চালু রাখার ব্যয় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন সচল রাখা গেলেও বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে চায়ের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

বিশিষ্ট চা-বিশেষজ্ঞ ও ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরীসহ একাধিক বাগান ব্যবস্থাপক ও টি প্ল্যান্টার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

ক্লোনেল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রনি ভৌমিক গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জেনারেটর দিয়ে কারখানা সচল রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাগান পরিচালনাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার চেয়ারম্যান ও দেশের সিনিয়র চা প্ল্যান্টার জিএম শিবলী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, উৎপাদন চালু রাখা গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

চা উৎপাদনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মিসআহউদ্দিন আহমদ। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

মৌলভীবাজার বিউবো পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রোজিৎ দেবনাথ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় সমহারে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। চা-বাগানের উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে।

তবে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শুধু শিল্পকারখানা কিংবা চা-বাগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকাকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারী ও সুযোগসন্ধানীরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু চলতি মৌসুমের উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; চায়ের গুণগত মান, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার প্রতিযোগিতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভরা মৌসুমে প্রতিদিনের উৎপাদন ঘাটতি পরবর্তী সময়ে আর পূরণ করা কঠিন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভরা মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা না ফিরলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও মান—দুটিই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবুজ চাগাছের সারির ভেতর এখন তাই শুধু ভালো ফলনের প্রত্যাশা নেই; আছে কারখানার মেশিন সচল রাখার দুশ্চিন্তাও। শ্রমিকেরা নিয়মিত পাতা তুলছেন, কারখানায় তা প্রক্রিয়াজাত করার প্রস্তুতিও থাকছে। কিন্তু বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহ সেই উৎপাদনচক্রে তৈরি করছে ছন্দপতন। বিদ্যুতের সংকট দ্রুত কেটে গিয়ে চা উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি ফিরবে—এটাই এখন চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের প্রত্যাশা।