img

শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক শকে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৫:৩৯, ২১ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক শকে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকায় বৈদ্যুতিক শকে আহত একটি উল্টোলেজি বানর (সিংহ বানর) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বানরটি বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক স্বপন দেব সজল, সঞ্জিত দেব এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরটিকে উদ্ধার করেন। পরে আহত বানরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বৈদ্যুতিক শকে আহত হওয়ার পর বানরটি মাটিতে পড়ে ছিল। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের কাছে বানরটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন সংকুচিত, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলা চারদিকে পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল ও চা-বাগানে ঘেরা। কাছেই রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এসব বনাঞ্চল ও চা-বাগান ঘিরে এলাকায় নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে।

তবে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের ওপর চাপ বাড়ছে বলে পরিবেশকর্মীরা মনে করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে কোথাও জনবসতি, কোথাও রিসোর্ট, চা-বাগান ও বিভিন্ন ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।

এর ফলে খাবারের সন্ধানে বন্যপ্রাণী বন থেকে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। আর লোকালয়ে আসার পথে তাদের নানা ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে। সড়ক পার হতে গিয়ে যানবাহনের চাপায় প্রাণ হারাচ্ছে কোনো কোনো প্রাণী। রেলপথ পার হতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবার মানুষের হাতে ধরা পড়ে বা আঘাত পেয়েও কোনো কোনো প্রাণী মারা যাচ্ছে।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বৈদ্যুতিক শকে আহত উল্টোলেজি বানর।

দুই দশকে দুই হাজারের বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখতে পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে খবর দেন। পরে ফাউন্ডেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর বন বিভাগ উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রাণীটিকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত প্রায় দুই দশকে তারা দুই হাজারের বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে।

উদ্ধার করা প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির সাপও রয়েছে। বিশেষ করে বড় আকৃতির অজগর ও বিভিন্ন বিষধর সাপ লোকালয়ে চলে আসায় অনেক সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে এসব প্রাণীকে না মেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।

পরিবেশকর্মীদের মতে, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা না গেলে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর বিচরণ আরও বাড়তে পারে। এতে একদিকে যেমন প্রাণীগুলো মানুষের বসতিতে এসে ঝুঁকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে মানুষও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের শিকার হতে পারেন।

শুক্রবারের ঘটনাটি তাই শুধু একটি বানর উদ্ধারের ঘটনা নয়; শ্রীমঙ্গলের বন, বন্যপ্রাণী ও মানুষের ক্রমবর্ধমান সহাবস্থানের জটিল বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বন কমলে বন্যপ্রাণী খাবার ও আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে আসবেই। তখন বৈদ্যুতিক তার, সড়ক, রেললাইন কিংবা মানুষের হাত—যেকোনোটিই হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য মৃত্যুফাঁদ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ৩ যুবক

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ২০ আগষ্ট ২০২৬

লিবিয়া থেকে গ্রিসে অবৈধভাবে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ নৌকা ট্র্যাজেডির ঘটনায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। খাবার ও পানির সংকটে নৌকাটি দীর্ঘ ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন- উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের আখল মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ টিপু (২৫), গন্ধর্বপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিব উল্লাহ (২৮) এবং হিজলা গ্রামের ছালিক মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী (২০)।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য মতে, নিখোঁজ যুবকদের বিদেশ পাঠাতে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি হয়েছিল। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে ওমান হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট রাতে তিনি লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে গেইম দেন। অপরদিকে হিজলা গ্রামের ইউসুফ আলী পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে চিলাউড়ার করিম দালালের মাধ্যমে গত ১ জুলাই বাড়ি ছাড়েন এবং লিবিয়া পৌঁছে গ্রিসের উদ্দেশে গেইমে অংশ নেন। বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু চিলাউড়ার করিম দালাল ও দোয়ারাবাজারের জসিম দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে গেইম দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের স্বজনরা কোনোভাবেই এই নির্মম সত্যি মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিখোঁজ ইউসুফ আলীর সম্পর্কে চাচা সাদিক আলম জানান, অভাব-অনটনের কারণে বাবার সাথে কৃষিকাজ করতো ইউসুফ। খুবই নিরীহ ও নম্র প্রকৃতির ছেলেটিকে অনেক কষ্ট করে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। করিম দালালের মাধ্যমে লিবিয়া গিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহর ছোট ভাই জহুর উল্লাহ ও প্রবাসে থাকা বড় ভাই আব্দুল ওয়াহিদ জানান, তারা পাঁচ ভাই ও এক বোন, যার মধ্যে হাবিব সবার ছোট। দালাল আজিজের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি ওমান হয়ে লিবিয়া যান। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে ৩টি বোট রওনা হয়েছিল, যার মধ্যে ২টি পৌছালেও অপর বোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নিখোঁজদের পরিবারে কান্নার রোল পড়লেও স্বজনরা এখনো বিশ্বাস করেন তাদের সন্তানরা জীবিত আছেন। স্বজনদের ধারণা, গ্রিসে না পৌঁছানো বোটটির কোনো একটি স্থানে তারা এখনও বেঁচে আছেন এবং শিগগিরই ভালো কোনো খবর আসবে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবার নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হলেও এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না, ফলে এটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। সমুদ্রের মাঝপথে নৌকাটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনাহার, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ ও চরম পানিশূন্যতায় টানা ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার সময় অন্তত ১১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানির মরদেহ বাধ্য হয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছালে সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০ জনের মধ্যে মারাত্মক অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের অনেকের শরীরে পচন ধরেছে।

ভূমধ্যসাগরে যুবকদের নিখোঁজের বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে এলাকার কেউ নিখোঁজ হয়েছেন বলে পুলিশকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বা অভিযোগ করা হয়নি।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর