img

২য় স্ত্রীকে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ স্বামী আটক

প্রকাশিত :  ০৯:২৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

২য় স্ত্রীকে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ স্বামী আটক

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলাস্থ নিজপাট ইউনিয়নে স্ত্রী জেসমিন বেগম (২৫) কে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে জেসমিনের স্বামী গোলাম রফিক উরফে রশিদ (৫২) ও তার প্রথম স্ত্রী রুশনা বেগমকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়াগাত্তি গ্রামের গোলাম রফিক তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে একত্রে থাকেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিলো। পারিবারিক কলহের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে গোলাম রফিক ও তার প্রথম স্ত্রী রুশনা বেগম মিলে দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন বেগমের সাথে ঝগড়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝগড়ার এক পর্যায়ে গোলাম রফিক জেসমিন বেগমের পেট ও মাথায় প্রচন্ড আঘাত করে এবং মাথার চুল কেটে ফেলেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীকে আটক করে। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির করছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, নিহত জেসমিন বেগমের শরীরে নির্যাতনের নানা চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গোলাম রফিক ও তার প্রথম স্ত্রী রুশনা বেগমকে হেফাজতে পুলিশ রাখা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত তারা মিয়া (২০)-এর মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ভারতের ইরানী থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার প্রদীপকার লে, চাতলাপুর বিজিবি ও আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, নিহত তারা মিয়ার পিতা আব্দুল মালেক, বড় ভাই রাজুসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি গ্রামের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরইছড়া সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন।

সূত্র জানায়, রোববার (৯ই আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে তারা মিয়াসহ স্থানীয় এলাকার ৫-৬ জন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ইরানী থানার আওতাধীন মাগুরউলি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে মুরইচড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৫-৬ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানি মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি নামক এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হন।

মরদেহ হস্তান্তরের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর