img

মৌলভীবাজার কাউয়াদিঘি হাওরে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত :  ১৯:২৯, ১০ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার কাউয়াদিঘি হাওরে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

মৌলভীবাজার মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদীঘি হাওরে আমন ধান রক্ষা ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির  আয়োজনে ৬ ই আগস্ট  দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে তারা অবস্থান নেন। পরে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আইনজীবী হুমায়ূন রশীদ সুয়েব এডভোকেট এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আ স ম ছালেহ সোহেল, কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এম খছরু চৌধুরী, মহিলা নেত্রী সাদিয়া নোশিন চৌধুরী, প্রফেসর মো. সেলিম, সাংবাদিক সালেহ এলাহি কুটি,কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুলেমান মিয়া, সামছুদ্দিন মাস্টার, মো. খায়রুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, মো. ফজলুর রহমান, সিপিবি নেতা জহুর লাল দত্ত, কয়েছ মিয়া, একাটুনার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ রুমেল আহমদ, কামাল হাসান, দুলাল তরফদার, ছাত্রনেতা জ্যোতিষ মোহান্ত, মোহাম্মদ মুজিব মনসুর, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবির খান, ডাঃ রওশন আহমদ, জয়েল আহমেদ, রাজন মিয়া, ও শামীম আহমেদ প্রমুখ। 

কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করে বলেন, মনু প্রকল্পের পাম্প দিয়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের ৮টি পাম্প নানা অজুতাত দেখিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি ও বিজতলা পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমনের চারা জমিতে রোপন করতে পারছেননা। সময়মতো চারা রোপন করতে না পাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। কৃষকরা সার্বক্ষণিক পাম্প চালু রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান। তাদের ন্যায্য দাবী দ্রুত মানা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির হুসিয়ারি দেন।

এদিকে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড ওয়াইড এর ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর এক বিবৃতিতে মৌলভীবাজারের মনু সেচ প্রকল্প কাসিমপুর পাম্প হাউসের গাফিলতিতে কাউয়াদিঘি হাওরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফসল হারিয়ে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নীরবতা আরও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক পাম্প চালু রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান।এবং কাসেমপুর পাম্প হাউস কৃষকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি পানি নিস্কাশনের জন্য হাওর রক্ষার স্বাথে মনু নদী ও  মাগুরা নদী দ্রুত খনন করার ও জোর দাবি জানিয়েছেন।। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে হাওরের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে তারা স্বাভাবিকভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর