img

টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১০:২০, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

 টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে এসে গোসলের সময় পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত পর্যটকের নাম আলী আকবর খান (৭২)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি গ্রামের মৃত আহমেদ আলী খানের ছেলে এবং বর্তমানে ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটির বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডের বাসিন্দা।

গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর উপজেলা অংশের ওয়াচ টাওয়ার এলাকার করচগাছের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আলী আকবর খানের মেয়ের জামাতা খাইরুল হাসানের বন্ধু ও একই নৌকার ভ্রমণসঙ্গী আনিসুর রহমান জানান, আলী আকবর খান হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিকেলে তিনি ওয়াচ টাওয়ারের কাছের একটি করচগাছ ধরে গোসল করছিলেন। হঠাৎ গাছ থেকে হাত ফসকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর ঘাট থেকে ৩২ জন পর্যটকবাহী একটি নৌকা টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ওই নৌকায় আলী আকবর খান তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতা খাইরুল হাসানের সঙ্গে ছিলেন। খাইরুল হাসানের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কেতুপাড়া গ্রামে হলেও বর্তমানে তিনিও রাজধানীতে বসবাস করছেন।

বিকেলে নৌকার পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় নেমে গোসল করছিলেন। আলী আকবর খানও গোসলে নামেন, কিন্তু হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাফিসাদ আহমদ জানান, বিকেল ৫টার দিকে এক পর্যটককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং গোসলের সময় তলিয়ে গিয়েছিলেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আলী আকবর খান ওয়াচ টাওয়ার এলাকার একটি গাছের কাছে গোসল করার সময় হাত ছুটে পানিতে তলিয়ে যান। পরে সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ তার স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর