img

সিলেটে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৭:৫০, ১২ আগষ্ট ২০২৬

সিলেটে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহতরা হলেন- রায়নগর মিতালি ১১১ নম্বর বাসার আব্দুস সত্তার মিয়া (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও গৃহপরিচারিকা (২৫)।

ব্যবসায়ী আব্দুস সত্তার মিয়া চেম্বার অব কমার্সের সদস্যরা ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন।

এই দম্পত্তির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

নিহত দম্পত্তির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, রায়নগরে বাসায় মা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সাথে এক কাজের মেয়ে থাকতো। সকাল ৯টার দিকও তাদের সাথে আলাপ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৯টার পর তাদের হত্যা করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত তারা মিয়া (২০)-এর মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ভারতের ইরানী থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার প্রদীপকার লে, চাতলাপুর বিজিবি ও আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, নিহত তারা মিয়ার পিতা আব্দুল মালেক, বড় ভাই রাজুসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি গ্রামের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরইছড়া সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন।

সূত্র জানায়, রোববার (৯ই আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে তারা মিয়াসহ স্থানীয় এলাকার ৫-৬ জন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ইরানী থানার আওতাধীন মাগুরউলি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে মুরইচড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৫-৬ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানি মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি নামক এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হন।

মরদেহ হস্তান্তরের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর