img

আজমিরীগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ১২ আগষ্ট ২০২৬

 আজমিরীগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাসেল মিয়া নামে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেল মিয়াকে দোকানে প্রবেশ করে পেয়ারা ও লটকন কিনতে দেখা যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ফল কেনার পরও তিনি প্রায় পাঁচ মিনিট দোকানে অবস্থান করেন। এ সময় দোকানের টেবিলের ওপর রাজিব আহমেদের কালো রঙের একটি স্মার্টফোন রাখা ছিল।

একপর্যায়ে এসআই রাসেল হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি দোকানির মোবাইলের ওপর রাখেন। পরে কথা বলার সময় দুটি ফোনই পকেটে ঢুকিয়ে নেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।

এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ। এতে এসআই রাসেলকে মোবাইলটি নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।

রাজিবের দাবি, পরে তিনি এসআই রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চান। তবে রাসেল প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে গভীর রাতে মোবাইলটি ফেরত না দিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানান রাজিব।

ব্যবসায়ী রাজিব আহমেদ বলেন, \'আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পর রাতে এসআই রাসেল ফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান। এ কারণে তিনি আমাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।\'

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে, তিনি পরিকল্পিতভাবে কিছু সময় দোকানে অবস্থান করে পরে মোবাইলটি নিয়ে যান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আকবর হোসেন বলেন, তিনি সিসিটিভি ফুটেজটি দেখেছেন। ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলায় এসআই রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সোমবার তাকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত তারা মিয়া (২০)-এর মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ভারতের ইরানী থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার প্রদীপকার লে, চাতলাপুর বিজিবি ও আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, নিহত তারা মিয়ার পিতা আব্দুল মালেক, বড় ভাই রাজুসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি গ্রামের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরইছড়া সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন।

সূত্র জানায়, রোববার (৯ই আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে তারা মিয়াসহ স্থানীয় এলাকার ৫-৬ জন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ইরানী থানার আওতাধীন মাগুরউলি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে মুরইচড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৫-৬ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানি মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি নামক এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হন।

মরদেহ হস্তান্তরের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর