img

গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বৃদ্ধ দম্পতিসহ ৩ খুন : পুলিশ

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বৃদ্ধ দম্পতিসহ ৩ খুন : পুলিশ

সিলেট নগরের স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর রায়নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। 

পুলিশ বলছে, গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বাবুল মিয়ার। দ্রুততার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

বাবুল রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়া কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে। তিনি রংমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করতেন।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। সে বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ওই বাড়িতে কাজ করত। সে সুবাদে কাজের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসাতে প্রবেশ করে। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকায়। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়।’’

পুলিশ কমিশনার বলেন, পরে বাবুল গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারন্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এরআগে সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে মহানগর পুলিশ। তারা হলেন- বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনা (১৮)।

আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন। এই দম্পত্তির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ১২ আগষ্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত তারা মিয়া (২০)-এর মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ভারতের ইরানী থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার প্রদীপকার লে, চাতলাপুর বিজিবি ও আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, নিহত তারা মিয়ার পিতা আব্দুল মালেক, বড় ভাই রাজুসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দশটেকি গ্রামের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরইছড়া সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন।

সূত্র জানায়, রোববার (৯ই আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে তারা মিয়াসহ স্থানীয় এলাকার ৫-৬ জন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ইরানী থানার আওতাধীন মাগুরউলি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে মুরইচড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৫-৬ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানি মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরউলি নামক এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হন।

মরদেহ হস্তান্তরের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর