img

এ বছরই পাঁচ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন: শ্রীমঙ্গলে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৭:০১, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

এ বছরই পাঁচ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন: শ্রীমঙ্গলে প্রতিমন্ত্রী
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন এবং তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চলতি বছরেই সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বাজেটে রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার ও অর্থ বিভাগ বৈঠক করে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

শ্রীমঙ্গলের ময়লার ভাগাড়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের বাইরে সরকারি মালিকানাধীন নিরাপদ জায়গা খোঁজা হবে। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে ময়লা থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরামর্শককে শ্রীমঙ্গলে পাঠানো হবে।

এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি ভবন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছয় মাস পর এসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে কি না, তা বিদ্যুৎ বিল পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর