img

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি-ভারতীয় চোরাকারবারী গোলাগুলি; ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ভারতীয় চোরাকারবারী আটক

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ২৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৫৭, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি-ভারতীয় চোরাকারবারী গোলাগুলি; ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ভারতীয় চোরাকারবারী আটক

ঢাকা, ২৮ আগস্ট ২০২৬: মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি-ভারতীয় চোরাকারবারী গোলাগুলি; ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ভারতীয় চোরাকারবারী আটক

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির বিশেষ অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) গতকাল ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, ভারতীয় একটি চোরাকারবারী চক্র মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী কুমারশাইল এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের একটি চালান বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসবে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমারশাইল এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পরবর্তীতে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা ওই এলাকায় আসলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ফায়ার করলে চোরাকারবারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে একজন ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড .২২ বোরের গোলাবারুদ এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় পলাতক চোরাকারবারীদের শনাক্ত ও আটকের লক্ষ্যে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আতাউর রহমান সুজন বলেন, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর