img

শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ গেলে মোমবাতির আলোয় জরুরি চিকিৎসা

প্রকাশিত :  ১৫:২৪, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ গেলে মোমবাতির আলোয় জরুরি চিকিৎসা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসকদের ভরসা করতে হচ্ছে মোমবাতির আলোয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের ক্ষত সেলাই, ইনজেকশন দেওয়াসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসাসেবাও দিতে হচ্ছে এমন অপর্যাপ্ত আলোতে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসকদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমের মধ্যেও বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য ন্যূনতম ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়নি।

হাসপাতালটিতে আইপিএস ও জেনারেটর থাকলেও সেগুলো কার্যত অকার্যকর। বিশেষ করে জেনারেটর থাকলেও তেলের কোনো বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটি চালু করা সম্ভব হয় না। ফলে জরুরি মুহূর্তে বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তার সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা।

শ্রীমঙ্গলের গণমাধ্যমকর্মী মো. এহসানুল হকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের ভেতর থেকে দুটি আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে তদন্তের পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মোমবাতির আলোয় জরুরি চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও সংশ্লিষ্ট স্টাফরা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা শুধু অব্যবস্থাপনার চিত্রই তুলে ধরে না, বরং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীর ক্ষত সেলাই বা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের এমন বেহাল পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চান স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, হাসপাতালের বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রাখতে আইপিএস ও জেনারেটর কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় তেলের বরাদ্দ নিশ্চিত করা, চুরি যাওয়া আইপিএসের ব্যাটারির বিষয়ে তদন্তের পর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে।

হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সুনামগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে বৃদ্ধা ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১২:৪৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের দুটি পৃথক স্থান থেকে এক বৃদ্ধা ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ধলাইড়পাড় থেকে বৃদ্ধার এবং দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের কুতুবপুর কৃষ্ণতলা এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মনফর আলীর স্ত্রী খাইরুন নেছা (৬৫) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের প্রয়াত গুরুসদয় দত্তের ছেলে সুমন দত্ত (৩৩)।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রতন শেখ বলেন, সকালে ধলাইপাড়ের উত্তরে স্কুলের পাশের ডোবায় এক নারীর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিয়ে নারীর পরিচয় জানতে চায় পুলিশ। পরবর্তীতে ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

তিনি বলেন, প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ বলেন, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ ছিলেন সুমন দত্ত। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে জামালগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করেন স্বজনরা।

এদিন সকালে কুতুবপুর কৃষ্ণতলার পাশে খালে সুমনের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্বজনরা। দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বিলাপ করছেন সুমন দত্তের মা সরস্বতি দত্ত।

অলিউল্লাহ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্বজনদের কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেননি।


সিলেটের খবর এর আরও খবর