img

শ্রীমঙ্গলে গোয়ালঘরে ঢুকে মুরগি খাওয়া বিশাল অজগর উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৫:২১, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে গোয়ালঘরে ঢুকে মুরগি খাওয়া বিশাল অজগর উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টারের একটি বাসার গোয়ালঘর থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের বাসার গোয়ালঘরে অজগরটি ঢুকে পড়ে। এ সময় সাপটি সেখানে থাকা চার দিন বয়সী একটি মুরগির মাকে খেয়ে ফেলে। অজগরটি দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা অজগরটিকে কোনো ধরনের ক্ষতি না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

উদ্ধার করা অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন লোকালয়ে বনাঞ্চল থেকে বড় আকারের অজগর, বিষধর শঙ্খিনীসহ  বিভিন্ন প্রজাতির সাপ চলে আসার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করছেন, যাতে সেগুলোকে নিরাপদে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা যায়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ একর ভূমি দখল করে জনবসতি, রিসোর্ট ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কারণে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে সাপ লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

স্বপন কুমার দেব সজল বলেন, ‘প্রতিদিনই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফোন করে বিভিন্ন জায়গায় সাপ আসার খবর দিচ্ছেন। আমরা খবর পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করছি, যাতে সাপগুলোকে আবার বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাপসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বিষধর খৈয়া গোখরা উদ্ধার, আতঙ্কে চা-বাগানের শ্রমিকেরা

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগান থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা (spectacled cobra) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের একটি অংশে চা-পাতা তোলার সময় শ্রমিকেরা সাপটি দেখতে পান। বিষধর সাপ বুঝতে পেরে তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। সাপটি উদ্ধারের ঘটনায় চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চা-বাগান সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্রমিকেরা চা-পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ে সাপটি। পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি খৈয়া গোখরা (spectacled cobra)। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার করা খৈয়া গোখরাটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপটিকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সিলেটের খবর এর আরও খবর