img

ধর্মপাশায় স্কুলের সামনেই শিক্ষককে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ধর্মপাশায় স্কুলের সামনেই শিক্ষককে কুপিয়ে জখম

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশায় বিদ্যালয়ের সামনেই লিটন বর্মণ (৩০) নামে এক শিক্ষককে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত লিটন বর্মণ উপজেলার পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। হামলাকারী টিনু মিয়া (৪০) একই গ্রামের সদর আলীর ছেলে।

মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় আহত শিক্ষক লিটন বর্মণকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক লিটন বর্মণের বাবা রবি চন্দ্র বর্মণের রেকর্ডভুক্ত একটি জায়গা নিয়ে একই গ্রামের সদর আলীর ছেলে টিনু মিয়ার সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৯টার দিকে টিনু মিয়া তার ছেলে সঠিক মিয়া, ভাগিনা মনির মিয়াসহ ৫-৬ জনকে নিয়ে ওই জায়গা দখল করতে যান। এ সময় তারা জায়গাটি নিজেদের দাবি করে সেখানে লাল নিশান টানানোর চেষ্টা করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রবি চন্দ্র বর্মণের ছেলে ও পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ সেখানে গিয়ে লাল নিশান টানাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লিটন চন্দ্র বর্মণের ওপর হামলার হয়।

পরিবারের অভিযোগ, টিনু মিয়া, তার ছেলে সঠিক মিয়া, ভাগনে মনির মিয়াসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষক লিমন বর্মণের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ জানান, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও টিনু মিয়া লিটন চন্দ্র বর্মণকে হুমকি দিয়েছিলেন। আজ বিদ্যালয়ের সামনে এসে গালাগাল করে ও আমার পেছন থেকে দা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেছে, এতে আমার মাথা কেটে গেছে।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে টিনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ধর্মপাশা থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মো. ইমাম হোসেন বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে পাথারিয়া কান্দা গ্রামের স্কুলের সামনে শিক্ষকের ওপর হামলা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। আহত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে জগন্নাথপুরের প্রবাসফেরত সুজন নিখোঁজ

প্রকাশিত :  ০৮:০৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমডি সুজন (৩০) ওমান থেকে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন যুবক। কিন্তু ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।

নিখোঁজ ওই প্রবাসীর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামে। স্বজনরা জানিয়েছেন, ওই প্রবাসী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ফলে উদ্বেগ আর উৎকষ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের লোকজনের।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ওমানের মাসকাট থেকে ওমান এয়ারের ‘WY-497’ ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন সুজন। তাঁকে গ্রামেরবাড়িতে নিতে আসতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সুজনকে দেখতে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন স্বজনরা। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর স্বজনরা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, সুজন বিমানবন্দর থেকে বাইরে বের হয়েছেন। কিন্তু টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইলে বিদেশি নম্বর থাকায় নেটওয়ার্ট মিলছে না।

সুজনের নিখোঁজ হওয়ার পর ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ সম্ভাব্য আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নিখোঁজ সুজনের ভগ্নিপতি পলাশ মিয়া বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে সুজনকে সুস্থ অবস্থায় বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেখা গেছে। কিন্তু বের হওয়ার পরই সে কোথায় হারিয়ে গেল আমরা বুঝতে পারছি না। তাঁর নিখোঁজে চরম উৎকষ্ঠায় সময় কাটছে পরিবারের লোকজনের।

তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে সুজনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সে দেশে ফেরার জন্য চটফট করছিল। তাই ওমানে থাকা তাঁর ভাই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এজন্য আমরা তাকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রহণের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আমরা এই বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কেউএমডি সুজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকলে, কিংবা কেউ যদি তাঁকে কোথাও দেখে থাকলে পরিবােরের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যোগাযোগের নাম্বার :০১৭৩৪৭৯৬২৩০।

সিলেটের খবর এর আরও খবর