img

বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধে শতভাগ শুল্কছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ ও অঞ্চলগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে।

এ সুবিধার আওতায় বেশ কিছু জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তের প্লাজমা (রক্তরস) থেকে উৎপাদিত চিকিৎসা উপাদান, বন্ধ্যত্বের ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট।

এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রাণিচিকিৎসার কিছু পণ্যও এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব পণ্যের কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট উপাদানও প্রয়োজনে শুল্কছাড়ের সুযোগ পাবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই শূন্য শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার আলোকে বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর বা প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি রয়েছে এবং যেসব পণ্য দেশটির জরুরি স্বাস্থ্যচাহিদা পূরণে অপরিহার্য, কেবল সে ক্ষেত্রেই এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আর্জেন্টিনা, ভারত, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে থাকা পেটেন্টযুক্ত সাধারণ ওষুধের ওপর আগের মতো

বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীতবাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

১০০ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকবে—যদি না সেগুলো অন্য কোনো বিশেষ সুবিধার যোগ্য হয়। অন্যদিকে সাধারণ জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদানগুলো সেকশন ২৩২-এর আওতায় আরোপিত এই শুল্কের আওতাভুক্ত হবে না।


img

এলপিজির কৃত্রিম সংকট, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ

প্রকাশিত :  ১৩:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও সংকট দেখা দিলে এর কারণ অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথায় কী কারণে সরবরাহ কম, কোথায় অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো বিষয় আছে কি না—এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। যেসব এলাকায় সরবরাহে ঘাটতি পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন জ্বালানিমন্ত্রী।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। এর মধ্যে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল সরকার।