img

যাত্রীদের নিতে ইসরায়েলি বিমান পাঠানোর অনুরোধ ফিরিয়ে দিল সৌদি

প্রকাশিত :  ০৬:২৮, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩২, ০১ অক্টোবর ২০২৬

যাত্রীদের নিতে ইসরায়েলি বিমান পাঠানোর অনুরোধ ফিরিয়ে দিল সৌদি

সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বিমান পাঠাতে চেয়েছিল ইসরাইল। তবে দখলদার দেশটির সামরিক বিমান সৌদি ভূমিতে নামার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই সৌদি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরবে আটকে থাকা ইসরাইলি যাত্রীদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির সামরিক বিমানকে সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল ইসরাইল। তবে ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই সেটি রাখা হয়নি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীদের ফিরিয়ে নিতে ইসরাইলি বিমানবাহিনী ‘সুপার হারকিউলিস’ উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর আগে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান জরুরি সংকেত পাঠানোর পর সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, বিমানের সহকারী পাইলট মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে যাত্রীরা তাকে ধরে ফেলেন এবং অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, যাত্রীদের পরবর্তী ফ্লাইটে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সৌদি আরবকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রিয়াদ বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না।

এর মধ্যেই সৌদি ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বৈঠকের খবরও অস্বীকার করেছেন এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা। এর আগে ইসরাইলি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক সফরের সময় নেতানিয়াহু সৌদি কর্মকর্তাসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে রাখাইনে বিমান হামলায় ৫০ প্রাণহানি, জাতিসংঘের উদ্বেগ

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ০১ অক্টোবর ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগ জানান জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক।

তিনি জানান, মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা প্রমাণ করে যে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এই সর্বশেষ বিমান হামলা সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। 

এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। পাশাপাশি মিয়ানমারের সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে, সোমবার মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে এই বিমান হামলা চালানো হয়। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি জানায়, ওই হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অং এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে অনেক নারী ও শিশুর মরদেহ দেখা গেছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা\'র অভিযোগ, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনবহুল বাজার, স্কুল ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আরাকান আর্মি। 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। 

এদিকে, মঙ্গলবার প্রায় ১,৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের সঙ্গে করা একটি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার আওতায় এটি প্রথম ধাপ। মালয়েশিয়া বলছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি স্বেচ্ছামূলক। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর