img

রাশিয়ায় ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির

প্রকাশিত :  ০৫:৫৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৯, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ায় ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দাবি জেলেনস্কির

রাশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেই সঙ্গে মস্কোতে বর্তমানে ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, নতুন তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের রাশিয়ায় মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বাছাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে আগস্টে জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে ৫০ হাজার পর্যন্ত উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হতে পারে। একই সময়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চেয়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়া গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে ওই সহায়তায় প্রাণঘাতী অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

জেলেনস্কির সর্বশেষ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার দুই বন্দি সেনাকে নিয়ে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন আটক করা দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে এ তথ্য প্রকাশ করায় দুঃখ প্রকাশ করে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, দুই দেশের মধ্যে এ হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার সমঝোতা হয়েছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এমন কোনো গোপন সমঝোতা ছিল না বলে মন্তব্য করায় দক্ষিণ কোরিয়া এর প্রতিবাদও জানায়।

ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা রাশিয়াকে সহায়তার জন্য পাঠিয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন আর্টিলারি ও মর্টার গোলা, পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান এবং একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া এ ধরনের সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য দিয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র:  এনডিটিভি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

পানিকে অস্ত্র বানাতে দেব না, ভারতকে পাকিস্তানের কড়া বার্তা

প্রকাশিত :  ১৮:৪৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কোনো চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতও পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়েছে যে চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তাই ভারতকে তাদের বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখতে হবে।

কাশ্মীরে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনার পর ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারার আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এই চুক্তি হলো দুই দেশের মানুষের জীবনরেখা। পানির অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টাকে যুদ্ধের শামিল বলে মনে করবে পাকিস্তান।

একটি দেশ যদি এভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি একতরফাভাবে ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ পায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে অভিন্ন পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: জিও টিভি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর