img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: বাস্তবে কারও জন্য ‘আগামীকাল' নিশ্চিত নয়

প্রকাশিত :  ০৯:১৬, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩২, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: বাস্তবে কারও জন্য ‘আগামীকাল' নিশ্চিত নয়

শায়খ আনিসুল হক

মৃত্যু মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতাগুলোর একটি হলেও মানুষ এ নিয়ে খুব কমই চিন্তা করে। মানুষের উচিত মৃত্যুকে স্মরণ করে নিজের জীবন, আমল ও রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা।

২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার খুতবায় কথাগুলো বলেছেন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ইমাম শায়খ আনিসুল হক । সম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া যুবক ইদরিস ফাইজির জীবন ও মৃত্যু নিয়ে এক প্রতিফলনমূলক বক্তব্য রাখেন তিনি।  

শায়খ আনিসুল হক বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” অথচ মানুষ আগামী বছর, সন্তান, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করে এমনভাবে যেন আগামীকাল তাঁর বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা আছে। বাস্তবে কারও জন্য আগামীকাল নিশ্চিত নয়।

তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে আমাদের নিজেদের কমিউনিটিতেই এই বাস্তবতা অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে সামনে আসে। ভাই ইদরিসের বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। তিনি ছিলেন সুস্থ, কর্মঠ ও প্রাণবন্ত একজন যুবক। স্ত্রী ও কয়েক মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন তিনি। দ্বীনের দাওয়াহ এবং উম্মাহর কল্যাণ নিয়ে তিনি চিন্তা করতেন । একটি মুসলিম চ্যারিটি রান-এ অংশ নিতে গিয়ে দৌড় শেষ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন ।

শায়খ আনিসুল হক বলেন, ভাই ইদরিস বৃদ্ধ ছিলেন না এবং তার মৃত্যু প্রত্যাশিতও ছিল না। আমাদের সঙ্গে তার একমাত্র পার্থক্য হলো, তার নির্ধারিত সময়টি আমাদের আগে এসে গেছে। তিনি এই মৃত্যু থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ভালো কাজের ওপর অবিচল থাকা। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) শিক্ষা দিয়েছেন যে, মানুষের আমলের মূল্যায়ন তার শেষ অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। কেউ জানে না তার জীবনের শেষ কাজটি কী হবে। ভাই ইদরিসও সেদিন জানতেন না যে, সেটিই হবে তার শেষ যাত্রা। আল্লাহ তাঁকে এমন অবস্থায় ডেকে নিয়েছেন, যখন তিনি একটি কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিচ্ছিলেন।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। শায়খ আনিসুল হক বলেন, ভাই ইদরিসের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরলে তিনি চোখের পানি নিয়েও বলেন, “আল-হামদুলিল্লাহ। আমরা আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট এবং আমরা অভিযোগ করি না।” শায়খ আনিসুল হক বলেন, ঈমানের অর্থ এই নয় যে, মানুষ কাঁদবে না বা কষ্ট পাবে না। বরং হৃদয় ভেঙে গেলেও আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং বলা  “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব”—এটাই ঈমানের প্রকাশ।

তৃতীয়ত, এমন একটি উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া যা মানুষের উপকারে আসে । তিনি বলেন, মানুষকে তার সম্পদ বা পদবি দিয়ে নয়, বরং তার রেখে যাওয়া কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। ভাই ইদরিস তরুণ মুসলিমদের সহায়তায় একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন, যুব কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন এবং নিজের স্থানীয় মসজিদের জন্য পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তৈরিতেও অবদান রেখেছিলেন। তার শেখানো তরুণরা এখন সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

শায়খ আনিসুল হক বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে বলেন, উত্তরাধিকার রেখে যেতে আলেম হওয়া বা মিম্বরে দাঁড়ানো জরুরি নয়। যে পেশা বা কাজে মানুষ রয়েছে, সেখান থেকেই আল্লাহর দেওয়া যোগ্যতাকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব।

চতুর্থত, উম্মাহর ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা। তিনি বলেন, ভাই ইদরিসের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে সহায়তা এবং তার ভালো কাজ অব্যাহত রাখতে মানুষ একত্রিত হয়েছে। অনেকেই তার সম্পর্কে ভালো স্মৃতি শেয়ার করেছেন। এমনকি মুসলিমদের ঐক্য ও ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করে দুইজন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।

শায়খ আনিসুল হক বলেন, বিপদের সময় মুসলিমরা কীভাবে একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়, মৃত ব্যক্তিকে সম্মান করে এবং শোকাহত পরিবারকে সহায়তা করে—সেটিও দাওয়াহর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

তিনি মরহুম ইদরিস ফাইজির মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন, নেককারদের মধ্যে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, তাঁর পরিবারকে সবর দান করেন এবং তার রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলোকে কবরে তাঁর জন্য চলমান সওয়াবের মাধ্যম বানিয়ে দেন।


শায়খ আনিসুল হক: ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ইমাম । জুমার খুতবা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

সাংসদ সরোয়ার আলমগীরকে লন্ডনে উষ্ণ সংবর্ধনা

প্রকাশিত :  ২০:৩৫, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম-২, ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এমপির লন্ডন সফর উপলক্ষে এক গণসংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকের উদ্যোগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার লন্ডনের একটি হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ফটিকছড়ির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকের সেক্রেটারি শেখ নাসির ও জয়েন্ট সেক্রেটারি সরওয়ার হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সলিসিটর জাগীর আলম।

সভায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া পরিচালনা করেন  সংগঠনের সহ সভাপতি আজমল করিম জুয়েল।

পরে ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আখতারুন আলম। স্বাগত বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ফটিকছড়ির প্রবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ঐক্য এবং দেশের মানুষের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

সভায় সংবর্ধিত অতিথি সরোয়ার আলমগীর বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের যেমন প্রবাসীরা বাংলাদেশের জন‍্য অনন‍্য অবদান রেখেছেন এখনো তারা নিঃস্বার্থভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তিনি প্রবাসীদের যেকোন সমস্যা বিশেষ করে বিমানবন্দরে হয়রানি এবং জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি ইউকের সাবেক চেয়ারপার্সন নাজিম উদ্দিন, গ্রেটার চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক এবং জেইন গ্লোবালের ডাইরেক্টর সাজ্জাদুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি কমিউনিটি ইউকের নেতৃবৃন্দসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সরোয়ার আলমগীর এমপির সন্তান সাইফ হোসেন তানবির, সহ সভাপতি আলী রেজা, ট্রেজারার এমদাদ হোসেন, সৈয়দ রাসেল, ওয়াহিদ পারভেজ, জয়নাল আবেদীন, মীরা বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলম, আলতাফ চৌধুরী, সাইফুল আজম, ইয়াসিন আলতাফ, নিগাত সুলতানা, ব‍্যারিস্টার ইকবাল আলম, ড. আব্দুল আজিম শাহ, কোরবান আলী, বখতিয়ার উদ্দিন, দীল মোহাম্মদ, শাহীন চৌধুরী, মনির মাহমুদ, সুজন বড়ুয়া, ওসমান ফয়সাল, সেলিম হোসেন, শওকত আকবর, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে ফটিকছড়ির উন্নয়ন, প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর