img

সৌদির বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বাংলাদেশি দুজন, আহত ৩ শতাধিক

প্রকাশিত :  ০৫:২০, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:২৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদির বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বাংলাদেশি দুজন, আহত ৩ শতাধিক

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল শনিবারের এ হামলার বিষয়ে জানেন, এমন তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটল।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য জায়গায় একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি।’

সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এর আগে গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১৩:০৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের বাইরে এ সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন এতে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে গাজায় গণহত্যা বন্ধ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। কেউ কেউ যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও কম মজুরির বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টের নওহাদ আক্কার বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তারা।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।’ গাজার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি গণহত্যা বন্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পূর্ণ মুক্তি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনের দাবিও জানান।

আক্কার আরও বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা উচিত। এ লক্ষ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরভাতা তহবিলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে তার সংগঠন।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের ইসাবেলা জাভিদান বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক তৎপরতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকেরা এ সহিংসতাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকান এরিক ডব্লিউ বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সহায়তা করে না। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের নামে কোনো গণহত্যা নয়।’

আয়োজকরা জানান, আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আনতেই এ কর্মসূচি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর