img

ফ্লাইদুবাইয়ে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, ইসরাইলে চাপের মুখে নেতানিয়াহ

প্রকাশিত :  ০৯:১০, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাইদুবাইয়ে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, ইসরাইলে চাপের মুখে নেতানিয়াহ

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় ইসরাইলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ। এ ঘটনায় পরিবহনমন্ত্রী রেগেভের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী নেতারা।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমানে ওমানের এক সহ-পাইলট পাইলটকে কুড়াল দিয়ে হামলা করার ঘটনায় দেশটির বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইনসের নিরাপত্তা যাচাই এবং তাদের পাইলটদের তদারকি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল।

বিরোধীদের প্রশ্ন, ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই- এমন একটি দেশের নাগরিক কীভাবে তেল আবিবগামী বিমানের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি পেলেন।

দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন

‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইনসের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার- এ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ২০২১ সালে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব শিন বেতের কাছ থেকে দেশটির পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৪ সালের একটি গোপন রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবহণ মন্ত্রণালয় তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।

ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলকে এ বিষয়ে নতুন কাঠামোর সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কমিটিতে পরিবহণ মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, শিন বেত, মোসাদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়।

তবে শিন বেত জানায়, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ তাদের নেই। পরে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের ওপরই এ দায়িত্ব রাখার পক্ষে মত দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা প্রধান এভরি কোহেন এত বড় দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানালেও মন্ত্রী মিরি রেগেভ দায়িত্বটি তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। ২০২৫ সালে নেতানিয়াহুও বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে পরিবহণ মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর কয়েক দশক ধরেই রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে- এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেছে মন্ত্রণালয়।

দায় নিতে নারাজ রেগেভ

হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ব্যর্থতার জন্য নিজের মন্ত্রণালয়কে দায়ী করতে রাজি নন মিরি রেগেভ। ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বিদেশি পাইলটদের বিষয়ে নিরাপত্তা যাচাই করার সক্ষমতা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নেই।

রেগেভ বলেন, বিমানের ক্রুদের শনাক্ত করার দায়িত্ব নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। হুমকির মাত্রা নির্ধারণ এবং কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা নিরাপদ কিনা, সেটিও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

তবে তার সাবেক মন্ত্রণালয় সচিব ও বিরোধী দলের প্রার্থী কেরেন টেরনার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অধীনে থাকায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় রেগেভকেই নিতে হবে।

ওমানি পাইলট নিয়ে প্রশ্ন

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওমানের কয়েক ডজন পাইলট ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে করে তেল আবিবে গেছেন। অথচ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই- এমন দেশের পাইলটদের দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের গাফিলতি ছিল।

ওমান ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়নি এবং ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ইসরায়েলি নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব দেশ ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেসব দেশের পাইলটদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নেই।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

জাপানে নারী হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের ওকিনাওয়ায় এক নারীকে হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ড ও লুটের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান সরকার।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, রোববার এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর একদিন আগে শনিবার ভোরে ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড। তার বয়স ২০ বছর। তিনি নাহার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের ফুতেনমা মেরিন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করতেন। নিহত নারীর নাম ইয়াগি আন্না, বয়স ৩৯ বছর।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলে আন্নার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে।

এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে একজন বিদেশির মতো দেখতে ব্যক্তিকে এক নারীর সঙ্গে হোটেলে ঢুকতে এবং পরে ওই নারীর কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে দেখা যায়। পরে হোটেলের আশপাশ থেকে আন্নার কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, শনিবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে আন্নাকে হত্যা করা হয়। তার মানিব্যাগসহ আরও কিছু জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে শনিবার রাতে নাহা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের ওকিনাওয়া শহরের একটি বিনোদন এলাকায় ব্যালার্ডকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আন্নার গলায় চাপ দেওয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ব্যালার্ড হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জাপান সরকার এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করা হয়। তাকে মার্কিন সেনাদের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজাও জাপানে থাকা মার্কিন সেনাদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে জাপান সরকার ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে।

মার্কিন তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স জানিয়েছে, তাদের এক সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। নিহত নারীর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে তারা।

টোকিওতে মার্কিন দূতাবাসও জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে জাপান সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাপানে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছে। এ কারণে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ওকিনাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর