img

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

প্রকাশিত :  ০৫:১৮, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

ইরানবিরোধী যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিন দেখতে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি সংঘাত বন্ধে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া এবং সংঘাত বন্ধের প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা।

মধ্যপ্রাচ্য সফরের শুরুতে তিনি কাতারে পৌঁছেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মারফি জানান, তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও যাবেন। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করেন তিনি।

সফরের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরেছেন মারফি। প্রথমত, মার্কিন সিনেটের সদস্যদের সরেজমিনে গিয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোর কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে’ তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

দ্বিতীয়ত, কাতার ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা সম্পর্কেও তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানবেন।

তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কেমন নীতি গ্রহণ করা উচিত, তা নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মারফি।

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ যখন তীব্রভাবে চলছে, তখন দুই দলেরই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্যদের মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইয়েমেনি বাহিনীর হামলায় ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি

প্রকাশিত :  ০৫:৩০, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত কয়েক দিনে শত শত হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এমন দাবি করেছে সরকারপন্থি বাহিনী। তবে নিহতের সংখ্যা বা হামলার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি শনিবার বলেন, গত কয়েক দিনে হুথিদের অবস্থান, সামরিক তৎপরতা ও সক্ষমতা লক্ষ্য করে ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-নাজিলি বলেন, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।

তার দাবি, হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ১৭০টি সামরিক যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।

তবে সরকারি বাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, হুথিরাও এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

আল-নাজিলি জানান, সানা, মিদি ও বাকিমসহ আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা ও লাহিজের বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ এলাকায়।

এর এক দিন আগে সরকারি বাহিনী দাবি করেছিল, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তাইজ গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। বিভিন্ন ফ্রন্টেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংঘাতে বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। ধুবাব এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরার আঘাতে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাইজের আল-হুবান ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি হুথিদের  নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরকে যুক্ত করেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তাইজে হুথি যোদ্ধাদের ঢোকার একটি চেষ্টা, ওই এলাকায় হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে।

মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার আগে ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর