img

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ : আটক ৭ শতাধিক

প্রকাশিত :  ১০:৫১, ০২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ : আটক ৭ শতাধিক

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্য রয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। বিক্ষোভস্থল এবং আশপাশের এলাকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। 

এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এই ধারার আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্লোগান দেওয়া ও জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়ম এবং অনেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। বিক্ষোভে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সদস্যরাও রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করে পুলিশ।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও আতিশিও রয়েছেন। এ ছাড়া আইসা, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে সেখানে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফিরোজ শাহ রোডে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয়।

পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে বারবার মানুষকে যন্তর মন্তরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সেখানে কোনো ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানায়, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতেই বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় দিল্লি মেট্রো মধ্য দিল্লির কয়েকটি স্টেশনে সাময়িকভাবে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দাম কমাতে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে ইউরোপ

প্রকাশিত :  ১৯:২০, ০২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:২১, ০২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। প্রাথমিকভাবে মজুত থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর মতে, বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মজুদ হ্রাস করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) দ্বারা সমন্বিত হবে এবং এটি চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

মাখোঁ জি৭ -এর বর্তমান সভাপতি – এই সংগঠনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানও রয়েছে – এবং নেতাদের এক ভিডিও বৈঠকের পর শুক্রবার তিনি এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাখোঁ বলেছেন, জি৭ দেশগুলো ‘পেট্রোলিয়াম পণ্যের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে’ চায়।

এদিকে, জি৭ নেতাদের জরুরি বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে আলোচনায় জি৭ নেতারা ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, ইউরোপ তাদের মজুত থেকে ডিজেল ছাড়বে এবং তা অবিলম্বে শুরু হবে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইউরোপ তাদের বিপুল পরিমাণ মজুত করা ডিজেল তেল থেকে বিশাল পরিমাণ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।’

প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত জি৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি মজুত থেকে ছাড়া হবে। আগামী চার মাসে ধাপে ধাপে এই মজুত বাজারে ছাড়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়েই বড় অংশের মজুত বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জি৭ জোটে রয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জোটটির সঙ্গে সদস্য হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপের ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়ে সমঝোতা করতে বৃহস্পতিবার রাতে মাখোঁর সঙ্গে এবং শুক্রবার সকালে জি৭ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প।

সূত্র : সিবিএস নিউজ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর