img

রাশিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় ভারতীয় ২৩ নাবিকসহ তেলবাহী জাহাজে আগুন

প্রকাশিত :  ০৬:৪৩, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় ভারতীয় ২৩ নাবিকসহ তেলবাহী জাহাজে আগুন

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে ড্রোন হামলায় ভারতীয় ২৩ নাবিকসহ একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। হামলার পর জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে নৌ ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর কৃষ্ণসাগরের পানিতে জাহাজটির অপরিশোধিত তেলে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকারী দল এখনো তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলে আবারও আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর সোচির কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সমুদ্রের মধ্যে জ্বলন্ত জাহাজ থেকে উজ্জ্বল আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

সোচির মেয়র জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে শহরের উপকূল ও সৈকত এলাকায় মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

এর একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন দাবি করেছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ওই ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিকও আহত হন।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় রাশিয়া ইউক্রেনীয় পণ্যবাহী শস্যের জাহাজেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ।

অন্যদিকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলাকে নিজেদের ওপর রুশ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে কিয়েভ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এরই মধ্যে রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা চালানোর পাশাপাশি দিনের বেলাতেও রাজধানী শহরটিতে ড্রোন হামলা শুরু করেছে। এতে শহরটির যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এর আগে দক্ষিণ রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার পর সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং কালো বৃষ্টির মতো দূষণের ঘটনাও ঘটেছে।

সূত্র: এনডিটিভি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বিক্ষোভ উত্তাল দিল্লি: পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে সরানোর পর আবারও ধর্মঘটে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

প্রকাশিত :  ১৪:২৬, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০৯, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লির যন্তর মন্তরে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। তাদেরকে আটক করে বাসেও তোলা হয়। পরে বাস থেকে নেমে পড়ে রাস্তার মধ্যে অবস্থান  ধর্মঘটে বসেন গান্ধীসহ অন্যান্য নেতারা। আজ বুধবার তাদের আটকের এ ঘটনা ঘটে। এটি স্বাভাবিক গ্রেপ্তারের কোনো প্রক্রিয়া নয়।

কংগ্রেস সূত্র দাবি করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবি জানানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। 

সূত্র আরও জানিয়েছে, রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখনো ওই এলাকায় অবস্থান ধর্মঘটে বসে আছেন। তারা পুলিশের চলে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যেতে বাধা দেওয়ার পর আকাশবাণী ভবনে হঠাৎ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময়ও গান্ধীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, আজ তারা আগাম কোনো অনুমতি নেননি। মধ্য দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজের পর সাংসদেরা যন্তর-মন্তরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে, রাহুল গান্ধীসহ নেতাদের আটক করে একটি বাসে বসানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অন্যদের ধরতে গেলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে এসে আবার রাস্তায় বসে পড়েন।

রাজধানীতে দিনভর চরম নাটকীয়তা, রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে আটকের পর, ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার করতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট দিল্লির জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় সমবেত হয়েছিল।

গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে খাড়গে বলেন, বিরোধীরা ‘ভোট চুরি’র বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাবে।

জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁর বাইরে বাস পার্ক করা ছিল এবং মধ্যাহ্নভোজের পর সাংসদেরা সেগুলোতে উঠে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন। পুলিশ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সব রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। পথিমধ্যেই বিরোধী সাংসদদের বহনকারী বাসগুলো পুলিশ আটকে দেয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কোনো বিক্ষোভ করার জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। এ ধরনের অনুমতি চাওয়ার আবেদনগুলো প্রস্তাবিত কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের কাছে জমা দিতে হয়।

রাহুল গান্ধীও জানিয়েছিলেন, বিরোধী সাংসদেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবেন।

মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি গতকাল যেমনটি বলেছিলাম, প্রায় ৩০০ জন সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা জানান যে আমরা সেখানে বিক্ষোভ করতে পারব না। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত বিক্ষোভের স্থান যন্তর মন্তরে যাওয়া, সেখানে আবার একসাথে বসবো। আমরা দেশকে বলবো, আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার দেশের বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন। মোদিজি, অমিত শাহজি, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।’ 

মঙ্গলবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে ঠাট্টা করে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি চান তার বিরুদ্ধে ১০০টি এফআইআর দায়ের করা হোক। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি এফআইআর আছে। আমার টার্গেট হলো ১০০টি।’ 

বিনা অনুমতিতে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ ও ছয় ঘণ্টা ধরে অবস্থান ধর্মঘট করার অভিযোগে আজ বুধবার গান্ধী এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিরোধীদের রাজপথের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীর মধ্যমণি হয়ে ওঠার এক দিন পরই এই মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। গতকাল তার নেতৃত্বে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই অবস্থান কর্মসূচির কারণে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বিরোধী সাংসদদের কাছের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে পদযাত্রা করতে বাধা দেওয়ার পর জোরপূর্বক তাকে আটকের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং অন্যদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাত ১০টায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর