img

টাওয়ার হ্যামলেটসের বার্ষিক সংবর্ধনায় সম্মানিত ফস্টার ও কিনশিপ কেয়ারাররা

প্রকাশিত :  ১৮:৫৯, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের বার্ষিক সংবর্ধনায় সম্মানিত ফস্টার ও কিনশিপ কেয়ারাররা

জাতীয় কিনশিপ কেয়ার সপ্তাহ উপলক্ষে ৯ অক্টোবর শুক্রবার অনুষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বার্ষিক কেয়ারারস সেলিব্রেশন ইভনিংয়ে ৮০ জন ফস্টার, কিনশিপ এবং স্পেশাল গার্ডিয়ানশিপ কেয়ারারকে সম্মাননা জানানো হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কেয়ারার, কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা একত্রিত হয়ে শিশু ও তরুণদের জীবনে ফস্টার ও কিনশিপ কেয়ারারদের অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি জানান।

কাউন্সিল আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল উপস্থাপনা, বিশেষ পুরস্কার প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্নেহময় ও স্থিতিশীল বাসস্থান নিশ্চিত করতে নিবেদিতপ্রাণ কেয়ারারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

যেসব কেয়ারার দীর্ঘদিন ধরে শিশু ও পরিবারকে সহায়তা করে আসছেন, তাঁদের ৫ থেকে ৩৫ বছরের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি সেবা পুরস্কার প্রদান করা হয়। সম্মানিত এসব কেয়ারারের সম্মিলিত সেবার মেয়াদ ৩৪৫ বছর।

কিনশিপ কেয়ার সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় কিনশিপ কেয়ারার ও স্পেশাল গার্ডিয়ানদের অবদান। তারা হলেন সেই আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা, যারা বাবা-মা কোনো কারণে সন্তানদের দেখাশোনা করতে না পারলে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন কিনশিপ লোকাল অফার চালু করে, যা কিনশিপ পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা আরও জোরদার করবে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল কিনশিপ অ্যাম্বাসেডর ড. জাহনিন ডেভিড, যিনি কিনশিপ কেয়ারারদের স্বীকৃতি ও সহায়তার গুরুত্ব এবং শিশুদের জীবনে তাদের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আমাদের ফস্টার ও কিনশিপ কেয়ারাররা আমাদের বরোর জন্য অসাধারণ অবদান রাখছেন। তারা শিশু ও তরুণদের জন্য নিজেদের ঘর ও হৃদয় উন্মুক্ত করে দেন এবং তাদের প্রয়োজনের সময় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও আপনত্বের অনুভূতি প্রদান করেন।”

মেয়র আরও বলেন, “এই আয়োজন তাদের সহমর্মিতা, অঙ্গীকার ও নিষ্ঠাকে স্বীকৃতি জানানোর একটি সুযোগ। তারা প্রতিদিন যে জীবন বদলে দেওয়া ভূমিকা পালন করছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের ফস্টার ও কিনশিপ কেয়ার সম্প্রদায় নিয়ে আমরা গর্বিত এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


ক্যাবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চানেন্স, কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এই আয়োজন আমাদের কেয়ারারদের নিষ্ঠা ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর একটি সুযোগ। যারা সদ্য ফস্টারিং শুরু করেছেন কিংবা ৩৫ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছেন, সবার অবদানই অসংখ্য শিশুর জীবন ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করেছে। তবে এখনও অনেক শিশু ও তরুণ রয়েছে, যাদের একটি স্নেহময় ও স্থিতিশীল পরিবারের প্রয়োজন। তাই আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ফস্টারিংয়ের বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। আপনি যদি কারও জীবনে পরিবর্তন আনতে চান, তাহলে আমরা আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই।”

অনুষ্ঠানটি কেয়ারারদের পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময়, নিজেদের অর্জন উদযাপন এবং নতুন সহায়তামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। এর মধ্যে ছিল বাডি স্কিম এবং চতুর্থ মকিংবার্ড হাব, যা নতুন ও বিদ্যমান ফস্টার কেয়ারারদের জন্য সহায়তা ও পারস্পরিক সমর্থন প্রদান করে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল স্থানীয় বাসিন্দাদের ফস্টারিং সম্পর্কে আরও জানার এবং এটি কীভাবে তাদের জীবনের সঙ্গে খাপ খেতে পারে তা বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

ফস্টারিং সম্পর্কে আরও জানতে এবং এর সুবিধাসমূহ সম্পর্কে তথ্য পেতে কাউন্সিলের ওয়েবসাইট (https://www.towerhamlets.gov.uk/lgnl/health__social_care/fostering,_adopting_and_looked/Fostering/Fostering.aspx) ভিজিট করুন।

 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

চ্যালেঞ্জ পভার্টি উইকে দারিদ্র্য মোকাবিলায় পদক্ষেপ জোরদার করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস

প্রকাশিত :  ১৮:৫৭, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

• টাওয়ার হ্যামলেটসে ৪০ শতাংশ পরিবার আয়-সংকটের মধ্যে বসবাস করছে

• আবাসন ব্যয় বাদ দিলে দেশে শিশু দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি

• ১ কোটিরও বেশি বিনামূল্যের স্কুল মিল বিতরণ, প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে £৫৫০ সাশ্রয়

 

চ্যালেঞ্জ পভার্টি উইক (১২-১৮ অক্টোবর) অর্থাৎ দারিদ্র বিমোচন সপ্তাহ উপলক্ষে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির ওপর আলোকপাত করছে। খাদ্য ও জ্বালানি বিল থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান, পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তা পর্যন্ত নানা ধরনের সেবা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে।

এই সচেতনতামূলক সপ্তাহটি একদিকে যেমন বর্তমানে পাওয়া বাস্তব সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরছে, অন্যদিকে বরোজুড়ে দারিদ্র্য মোকাবিলা ও বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে কাউন্সিলের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারকেও সামনে নিয়ে আসছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “দারিদ্র্য মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে আবাসন পর্যন্ত সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। চ্যালেঞ্জ পভার্টি উইক সচেতনতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, তবে এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কার্যকর পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আমরা এমন সহায়তায় বিনিয়োগ করছি, যা আজই বাসিন্দাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় অর্থবহ উদ্যোগ নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, “ফ্রি স্কুল মিল, স্কুল ইউনিফর্ম কেনায় আর্থিক সহায়তা, কাউন্সিল ট্যাক্সে সহযোগিতা কিংবা ওভারক্রাউডিং বা অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আবাসন সমস্যার সমাধান, সব ক্ষেত্রেই আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।”

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লন্ডনের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটস চতুর্থ সর্বাধিক বঞ্চিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং এখানে ৪০ শতাংশ পরিবার আয়-সংকটের মধ্যে বসবাস করছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্সিলের নতুন অ্যান্টি-পভার্টি টাস্কফোর্স তাদের কাজের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। কারা দারিদ্র্যতার মধ্যে রয়েছেন এবং কেন রয়েছেন, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য তারা তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

এ গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যবিরোধী কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কাউন্সিল এখনই নানা ধরনের ব্যবহারিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করছে।

কাউন্সিল বর্তমানে ক্রাইসিস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফান্ড পরিচালনা করছে, যা ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি) এর অর্থায়নে পরিচালিত। এই তহবিল শুধু জরুরি সহায়তাই প্রদান করে না, বরং বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে প্রবীণদের মধ্যেও দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি। এখানে ৬১ শতাংশ প্রবীণ ব্যক্তি আয়-সংকটে থাকা পরিবারে বসবাস করেন।

এ কারণে কাউন্সিল প্রবীণদের জন্য লাঞ্চ ক্লাব, উষ্ণতার কেন্দ্র (ওয়ার্ম হাবস্), ভ্রমণ কর্মসূচি এবং মিলস অন হুইলস সেবা প্রদান করছে।

দেশের সবচেয়ে বিস্তৃত জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা প্যাকেজগুলোর একটি পরিচালনা করছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, যা খাদ্য, শিক্ষা, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি বিল পরিশোধে বাসিন্দাদের সহায়তা করছে।


কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • যোগ্য বাসিন্দাদের জন্য ২০০ পাউন্ড গর্ভকালীন সহায়তা প্রদান
  • প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বজনীন বিনামূল্যের স্কুল মিল কর্মসূচি চালু রাখা
  • এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটিরও বেশি স্কুল মিল পরিবেশন করা হয়েছে, যা প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে ৫৫০ পাউন্ড সাশ্রয় করে
  • স্কুল পোশাক অনুদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে £৫০ পাউন্ড থেকে £১৫০ পাউন্ড মূল্যের ভাউচার প্রদান
  • এ কর্মসূচিতে কাউন্সিলের ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ, যা প্রতি বছর প্রায় ৭,০০০ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করে

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েও তরুণদের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালে এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স (ইএমএ) এবং ইউনিভার্সিটি বার্সারি পুনরায় চালুর পর থেকে কাউন্সিল ৬,৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে এবং তাদের জন্য ৫.৭ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অনুদান প্রদান করেছে।

এ ছাড়া কাউন্সিল দেশের অন্যতম উদার কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিম পরিচালনা করে, যার আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা তাদের কাউন্সিল ট্যাক্স বিলের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন।

শুধু গত এক বছরেই এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮,০০০-এর বেশি বাসিন্দাকে মোট ৩৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ডেপুটি মেয়র এবং বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার বলেন, “আমরা জানি, প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে একজন মানুষ বা একটি পরিবার, যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য সংগ্রাম করছে। তাই আমরা এমন বাস্তব সহায়তার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যা এখনই বাসিন্দাদের কাজে আসে এবং নিশ্চিত করে যে কেউ যেন তার প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় ।”

তিনি বলেন, “আমাদের অ্যান্টি-পভার্টি টাস্কফোর্স বাসিন্দাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করছে, যাতে আমরা বৈষম্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি।”

খাদ্য ব্যয়ের চাপে থাকা বাসিন্দাদের সহায়তায় কাউন্সিল স্থানীয় খাদ্য সহায়তা নেটওয়ার্কের জন্য অর্থায়ন বাড়িয়ে রেকর্ড ৮ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড করেছে।

ফুড স্টোর নেটওয়ার্ক এবং ফুড ব্যাংকগুলোর সহায়তার মাধ্যমে বাসিন্দারা কম খরচে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি আবাসন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ ভাতা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সহায়তাও পেতে পারেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় সংক্রান্ত সহায়তা সম্পর্কে আরও জানতে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: www.towerhamlets.gov.uk/costofliving


কমিউনিটি এর আরও খবর