img

খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

প্রকাশিত :  ১৮:৪২, ১১ জুন ২০২৬

খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট।

এদিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে আসছেন। অনেকে এখনো হাসপাতালের মধ্যে আটকে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে সিটি মেডিকেলের নিচতলায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এর ৫ মিনিটের মাথায় ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম বলেন, আমাদের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুনের ঘটনায় রাত ১১টা পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন। হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে এসেছেন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

৬ নবজাতকের মৃত্যু : আদ্-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১০ জুন ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর যে জবাব দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে সরকার সন্তুষ্ট নয়। সবই অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনে একাধিক গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযোগী ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ঘাটতি ছিল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত।

এ ছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক ওয়ার্ডে উপস্থিত ছিলেন না বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। নবজাতকদের অবস্থার অবনতি ঘটার পরও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা চিঠিতে এ শোকজ জারি করা হয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর