img

বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই স্পেনের বিশ্বরেকর্ড, টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত

প্রকাশিত :  ০৬:১৩, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই স্পেনের বিশ্বরেকর্ড, টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত

বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়েছে স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে লা রোহা।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত থেকে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল ইতালি। ওই সময়েই ইউরো ২০২০ এর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আজ্জুরিরা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতালির সেই রেকর্ড স্পর্শ করে স্পেন। এরপর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ৩৮তম অপরাজিত ম্যাচের মাধ্যমে এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়ে দলটি। 

শুধু তাই নয়, এবারের বিশ্বকাপে সাতটি ক্লিন শিট রেখে নতুন নজিরও গড়েছে স্পেন। বিশ্বকাপের পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করে শিরোপা জেতা প্রথম দল এখন লা রোহারা।

স্পেনের জন্য দীর্ঘ অপরাজিত থাকার ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে টানা ৩৫ ম্যাচ হারেনি তারা। সেই সময়ই জিতেছিল ইউরো ২০০৮-এর শিরোপা।

বর্তমান অপরাজিত এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে হারের পর। এরপর আর কোনো ম্যাচে ৯০ মিনিট বা অতিরিক্ত সময়ে হারেনি স্পেন। যদিও নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল তারা। তবে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে টাইব্রেকারের হারকে ড্র হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতায় সেটির প্রভাব পড়েনি।

এই ৩৮ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রায় রয়েছে স্পেনের ইউরো ২০২৪ জয়ের অভিযান এবং সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় অধ্যায়।


খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

ফাইনালে হারের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন মেসি

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের একদিন পরও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পরাজয়ের বেদনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সমর্থক ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে অভিনন্দন জানান।

স্প্যানিশ ভাষায় লেখা এ বিবৃতিটি মেসি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট করেছেন। এর বাংলা ভাবার্থ এমন- ‘কষ্টটা অনেক বড়, আর এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে আমি ভালো স্মৃতিগুলোও মনে রাখতে চাই... আমরা যে ম্যাচগুলো খেলেছি, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, সেগুলো আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে। পুরো একটা দেশের সমর্থন নিয়ে, দলের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায়, আমরা আবারও বিশ্বসেরা দলগুলোর একটি হতে পেরেছি। আমরা কী অর্জন করেছি, তা আজ পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন, তবে এই দল টানা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। প্রতিটি শুভেচ্ছা আর প্রতিটি বার্তার জন্য আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আবারও একটা দেশ হিসেবে একসঙ্গে জড়ো হয়েছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্বে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমি স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।’

মেসির এই বার্তা আবেগঘন হলেও, রোববারের ম্যাচের পর দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। ওই ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জেতার পর মাঠে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেসি জড়িত ছিলেন না। তবে জানা গেছে, এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করবে ফিফা।

এ ম্যাচটি সম্ভবত মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারেরও শেষ ম্যাচ হতে পারে। পরের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক থাকবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তিনি তখনও খেলতে পারবেন, এমনটা কল্পনা করা গেলেও বাস্তবে তা অসম্ভবই মনে হচ্ছে।

রোববার রানার্সআপ পদক হাতে নেওয়ার সময় কান্না চেপে রেখে মাঠ ছাড়েন মেসি। তার এ আচরণেই হয়তো ইঙ্গিত মিলেছিল, বিশ্বকাপের সঙ্গে তার পথচলা এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে।

বয়স হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সেরাটাই দিয়েছেন মেসি। এই আসরে অনেক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এমনকি গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। মেসি আর তার শেষ মুহূর্তের নৈপুণ্য না থাকলে, ফাইনালের অনেক আগেই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেত আর্জেন্টিনা।

তবে এত কিছুর পরও, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এ লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার কষ্ট এখনো স্পষ্ট। মেসির পোস্টে সেটাই ফুটে উঠল।


খেলাধূলা এর আরও খবর