img

মাহমুদ আব্বাসকে জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে আবারও ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৬:১২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাহমুদ আব্বাসকে জাতিসংঘ অধিবেশনে যেতে আবারও ভিসা দিলো না যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তিনি সরাসরি জাতিসংঘের এই বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে পারছেন না। একই সঙ্গে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ওপর বিদ্যমান ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আল জাজিরার এক সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের পর তিনি ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবারও সেই পথই খোলা থাকতে পারে।

ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পিএ কর্মকর্তা ও পিএলও সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নিউইয়র্কে অধিবেশন শুরুর কয়েক দিন আগেই এই ঘোষণা এসেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, পিএলও ও পিএ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা এবং ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ অব্যাহত রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।

গত বছরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের অধিবেশনের আগে পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি বা আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। জাতিসংঘ সদর দপ্তর সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় কিছু ছাড় থাকলেও আব্বাস সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি পক্ষ এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে বার্তাসংস্থা আনাদোলু পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে আব্বাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং এর আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছিল। জবাবে উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে প্রতিটি ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে আমাদের দায়িত্বকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিই। তবে সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করে আমরা আমেরিকানদের সুরক্ষা অব্যাহত রাখব।

চাকন আরও জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ভিসার আবেদন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে বা নির্দেশনা না মানলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৯:৪৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রিপাবলিকান নেতা ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।

হান্ট সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ইরাকে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে ২০০৬ সালে বাগদাদে ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে কূটনৈতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন।

সৌদি আরবে থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

গত বছরের নভেম্বরে তিনি বলেন, সৌদি আরবে দুই বছর বসবাস এবং ইরাকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থায় জীবনযাপন কেমন হতে পারে, তা সরাসরি দেখেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি আরও বলেন, যারা তার ইসলাম নিয়ে সতর্কবার্তাকে ‘ভয় ছড়ানো’ বলে মনে করেন, তারা কখনো এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। তিনি সৌদি আরবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেন।

 ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্টেকলবেক টুনাইট টকশোতে হান্ট আরও বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম সম্পর্কে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’

তার দাবি, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশগুলোতে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

তার এসব বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনাও হয়েছে।  

দ্য নিউইয়র্কার এক প্রতিবেদনে বলছে,  হান্ট ও তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা মুসলিমদের নিয়ে বক্তব্যকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছিলেন।

হিউস্টন ক্রনিকল--এর কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসনও তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ভয় উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস অ্যাকশনের এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল অভিযোগ করেন, টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থীরা কে বেশি ‘মুসলিমবিরোধী’হতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন এবং ভোট পাওয়ার জন্য মুসলিমদের নিয়ে ভয় তৈরি করছেন।

ইসরাইলের কট্টর সমর্থক

হান্ট ইসরাইলেরও শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একজন সত্যিকারের মিত্র’ রয়েছে—আর সেটি হলো ইসরাইল। 

তিনি ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে যুক্তি দিতে দেশটির ইহুদি ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন।

হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এবং ইসরাইলের সঙ্গে আরও আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর ব্যাপারেও ওয়াশিংটনের সতর্ক থাকা উচিত।

২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হান্ট বলেন,  ইসরাইলই জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশটি যুক্ত করেছে


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর