img

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৯:৪৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রিপাবলিকান নেতা ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।

হান্ট সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ইরাকে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে ২০০৬ সালে বাগদাদে ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে কূটনৈতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন।

সৌদি আরবে থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

গত বছরের নভেম্বরে তিনি বলেন, সৌদি আরবে দুই বছর বসবাস এবং ইরাকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থায় জীবনযাপন কেমন হতে পারে, তা সরাসরি দেখেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি আরও বলেন, যারা তার ইসলাম নিয়ে সতর্কবার্তাকে ‘ভয় ছড়ানো’ বলে মনে করেন, তারা কখনো এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। তিনি সৌদি আরবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেন।

 ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্টেকলবেক টুনাইট টকশোতে হান্ট আরও বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম সম্পর্কে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’

তার দাবি, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশগুলোতে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

তার এসব বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনাও হয়েছে।  

দ্য নিউইয়র্কার এক প্রতিবেদনে বলছে,  হান্ট ও তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা মুসলিমদের নিয়ে বক্তব্যকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছিলেন।

হিউস্টন ক্রনিকল--এর কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসনও তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ভয় উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস অ্যাকশনের এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল অভিযোগ করেন, টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থীরা কে বেশি ‘মুসলিমবিরোধী’হতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন এবং ভোট পাওয়ার জন্য মুসলিমদের নিয়ে ভয় তৈরি করছেন।

ইসরাইলের কট্টর সমর্থক

হান্ট ইসরাইলেরও শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একজন সত্যিকারের মিত্র’ রয়েছে—আর সেটি হলো ইসরাইল। 

তিনি ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে যুক্তি দিতে দেশটির ইহুদি ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন।

হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এবং ইসরাইলের সঙ্গে আরও আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করা দেশগুলোর ব্যাপারেও ওয়াশিংটনের সতর্ক থাকা উচিত।

২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হান্ট বলেন,  ইসরাইলই জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশটি যুক্ত করেছে


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যৌথ সীমান্ত কমিশন চালু করল চীন-পাকিস্তান, আপত্তি ভারতের

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্ত কমিশনকে আইনগত ভিত্তিহীন ও অবৈধ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে ইসলামাবাদের কোনো ধরনের চুক্তি করার বৈধ অধিকার নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তাই তথাকথিত এই যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। অবৈধভাবে দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে কোনো সমঝোতা করার এখতিয়ার পাকিস্তানের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সীমান্ত চুক্তি ভারত কখনই স্বীকার করেনি এবং একে শুরু থেকেই ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে মনে করে আসছে। পাকিস্তান সে সময় কাশ্মীরের কিছু অংশ চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল, যার মধ্যে আকসাই চিন ও শাক্সগাম উপত্যকা অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া বিতর্কিত ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিসি) তীব্র বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। নাটকমঞ্চায়ন বন্ধ করে দখল করা ভারতীয় ভূখণ্ড দ্রুত খালি করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জয়সওয়াল।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই যৌথ কমিশনের প্রথম বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সীমানা ও মহাসমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী নেতৃত্ব দেন। বৈঠকের পর একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল পাকিস্তান।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর