তিন মাসের জন্য ফ্যামিলি ট্যাক্সে নতুন এমডি
অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ফ্যামিলি টেক্স লিমিটেডে তিন মাসের জন্য কোম্পানিটির শেয়ারধারী পরিচালক মিরাজ-ই মোস্তফাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
আজ বুধবার কোম্পানিটির পুর্নগঠিত পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন নিয়োগ করা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ-ই মোস্তফা কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং কোম্পানিটির জন্য নতুন একজন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও একজন কোম্পানি সচিব নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্যামিলি টেক্স ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটির পর্ষদ পুর্নগঠন করে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তারপর অনেকবার আলোচনায় আসে কোম্পানিটি চালু করা সম্ভব হবে না। বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এমনও বলেছেন যে, তারা কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। পরে কারখানাটি বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে পুনর্গঠন করা বোর্ডের সদস্যরা পরিদর্শনে যান ফ্যামিলি টেক্সের কারখানা। সেখান থেকে ফিরে এসে তারা জানান, কোম্পানির সক্ষমতার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদনে ফিরেছে। সবশেষ খবর আসে, কোম্পানিটির উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে উদ্যোক্তারা। এতে শেয়ারবাজারেও কোম্পানিটির শেয়ার দরে নড়াছাড়া শুরু হয়।
শেয়ারবাজারের তথ্য বলছে, ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফ্যামিলিটেক্স এক বছর পর ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে চমক দেখায়। তারপর থেকেই হতাশ করতে থাকে বিনিয়োগকারীদের। টানা লোকসানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার বিক্রি করে করে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বিনিয়োগকারীরা।
এই অভিযোগ ওঠার পর বিএসইসি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিচালকদের জরিমানাও করে। কিন্তু জরিমানার টাকাও পরিশোধ করেনি উদ্যোক্তারা। বরং সে সময় জানা গিয়েছিল, মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে গেছেন।
বিএসইসি বন্ধ ও লোকসানি ১৬টির বেশি কোম্পানিতে প্রাণ ফেরাতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে একটি এই ফ্যামিলিটেক্স।
ফ্যামিলি টেক্সের জন্য বিএসইসির মনোনীত পরিচালক হলেন কাজী আমিনুল ইসলাম, ড. সমীর কুমার শীল, ড. গাজী মোহাম্মদ হাসান জামিল, ড. মো. জামিল শরিফ, শরিফ এহসান এবং ড. মো. ফরজ আলী। এরপর কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারী পরিচালক হিসাবে মিরাজ-ই মোস্তফা ও তাবাসুম করিমকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
কোম্পানিটির পুর্নগঠিতে পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফরজ আলী।
কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে এখন মাত্র ৪.০২ শতাংশের মালিক কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে মালিকপক্ষকে। এই কোম্পানির ৭৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছরেও কোম্পানিটি ডিভিডেন্ডের মুখ দেখায়নি বিনিয়োগকারীদের। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়াপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৫ পয়সা।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ি, ২০২১ অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’২১) কোম্পনিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১৩ পয়সা।



















