img

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুন্সীগঞ্জের অবদান

প্রকাশিত :  ১০:৩৭, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৮, ০৩ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুন্সীগঞ্জের অবদান

সোহেল ঢালী

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল বাংলার এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলানিকেতন মুন্সীগঞ্জ। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ জেলা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দখল করে আছে এক অনন্য স্থান। রাজধানীর অদূরে অবস্থান এবং ঐতিহ্যগত কারণে মুন্সীগঞ্জ একটি ব্যাপক সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিকএলাকা। বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোকে যুক্ত করার পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। এ সমৃদ্ধির আলো ছড়াচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে ব্যবসা-বানিজ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে। জেলার বাউশিয়ার পোশাক শিল্পপল্লীসহ গড়ে উঠছে অজস্র শিল্প কারখানা। এ জেলায় বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলে অসংখ্য রাইস মিল, অয়েল মিল, ডাল মিল, ময়দার মিল রয়েছে যা বিশেষত মীরকাদিম বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। অতীতে তথা পাক-ভারত উপমহাদেশে এই মীরকাদিম বন্দর একটি বৃহৎ বন্দর হিসাবে সুখ্যাতির অধিকারী ছিল। অন্যদিকে এ জেলার মুক্তারপুরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মাছ ধরার জাল তৈরীর অসংখ্য শিল্প যা জেলা ভিত্তিক বিবেচনা করলে উল্লেখ করার মত। এছাড়া এ জেলায় অসংখ্য সিমেন্ট ফ্যাক্টরী রয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট ছোট শিল্প। এছাড়া এ জেলায় টেক্সটাইল ও কেমিক্যাল শিল্প রয়েছে উল্লেখ করার মত। সম্প্রতি সরকার এই জেলায় গার্মেন্টস শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প স্হাপনের জন্য বিশেষ জোন সৃষ্টি করার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো: 

১. হিমাগার ৬৭টি,

২. সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ৬টি,

৩. জাহাজ নির্মাণ শিল্প ৩টি,

৪. কাগজ ফ্যাক্টরী ২টি,

৫. টিস্যু ফ্যাক্টরী ১টি (বসুন্ধরা),

৬. লবণ ফ্যাক্টরী ২টি,

৭. ম্যাচ ফ্যাক্টরী ২টি। 

বিসিক শিল্প নগরীর  জমির পরিমাণ -১২.৬৮ একর। প্লট সংখ্যা-৮২টি, বরাদ্দযোগ্য ৮২টি, বরাদ্দকৃত-৮২টি, শিল্প ইউনিট-৬৫টি, উৎপাদনরত ৪৯টি, উৎপাদনযোগ্য ৪টি, নির্মাণাধীন ৬টি, নির্মাণাধীনের অপেক্ষায় -৬টি। বাস্তবায়নাধীন বৃহৎ শিল্প প্রকল্প এপিআই শিল্পপার্ক (গজারিয়া উপজেলায়)।

এক নজরে মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের নাম ও ঠিকানা: 

১. মেট্রো সিমেন্ট, পশ্চিম মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর;

২. ক্রাউন সিমেন্ট, পশ্চিম মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর;

৩. মোল্লা সল্ট  ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ, পশ্চিম মুক্তারপুর,মুন্সীগঞ্জ সদর;

৪. শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, পশ্চিম মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর;

৫. প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাক্টরী,পশ্চিম মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর;

৬ টংগীবাড়ী হিমাগার, পশ্চিম মুক্তারপুর মুন্সীগঞ্জ সদর;

৭. নিশান কোল্ড স্টোরেজ, পশ্চিম মুক্তারপুর,মুন্সীগঞ্জ সদর;

৮. হেনা ফিসিং নেট ইন্ডাঃ লিঃ, বিসিক শিল্প নগরী, মুন্সীগঞ্জ;

৯. আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডাঃ, পশ্চিম মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর;

১০. ই্উরোপা কোল্ড স্টোরেজ, নইরপুকুরপাড়,মুন্সীগঞ্জ সদর;

১১. মেসার্স প্রিজেন্ট ট্রেডিং কোল্ড স্টোরেজ. মীরকাদিম, মুন্সীগঞ্জ সদর;

১২. সানফ্লাওয়ার কোল্ড স্টোরেজ, মীরকাদিম,মুন্সীগঞ্জ সদর;

১৩. জাজিরা কোল্ড স্টোরেজ, তিলার্দি চর, মুন্সীগঞ্জ সদর।

বহুল কাাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ একটি অত্যাধুনিক জেলায় পরিণত হচ্ছে, যা নিম্নোক্ত কারণে সহজেই অনুমেয়-

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাদের সবাইকেই জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ বাবদ কয়েক গুণ টাকা দিয়েছে সরকার। আর স্বপ্নের এই সেতুর জন্য যারা বাপ-দাদার ভিটেমাটি পুরোটাই হারিয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণের টাকার পাশাপাশি বসবাসের জন্য প্লটও দিয়েছে সরকার। পাঁচটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নামমাত্র মূল্যে আড়াই, পাঁচ ও সাত শতাংশের প্লট দেয়া হয়েছে তাদের। প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সবুজে ঘেরা নান্দনিক এসব পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ৫টি পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-এ ২টি পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। প্রথমটি কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং দ্বিতীয়টি যশোলদিয়া পুনর্বাসন কেন্দ্র।

পদ্মা সেতু হওয়ায় পোস্তগোলা থেকে মাওয়া পর্যন্ত সড়কপথের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে, জমির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাড়ছে আশপাশে বসতি। গড়ে উঠছে বহুতল ভবন, শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্র। আর শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্র বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়লে বেকারত্বও কমবে। শুধু তাই নয়, মুন্সীগঞ্জ ঢাকার পাশের জেলা হওয়ায় কেরানীগঞ্জের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের তিনটি উপজেলাতেও ঢাকার কিছু চাপ কমানো সম্ভব। সরকার চাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানও এখানে স্থানান্তর করা যাবে।

পদ্মা সেতু কৃষিতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এ বৈপ্লবিক পরিবর্তনে যোগ্য অংশীদার মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীও। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মুন্সীগঞ্জ ঢাকার পাশের জেলা হলেও মুন্সীগঞ্জ ছিল অবহেলিত। বলা যায়, বাতির নিচে অন্ধকার। মুন্সীগঞ্জবাসী মনে করে, পদ্মা সেতুর কারণে সেই অন্ধকারটা দূরীভূত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে প্রতি বছর গড়ে ১৩ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়। এ ছাড়া আড়িয়াল বিলসহ জেলার নদীবেষ্টিত সব উপজেলায় ধান, পাটসহ নানা ফসল চাষ হয়। প্রচুর মাছও আছে এই জেলায়। পদ্মা সেতু দিয়ে এগুলো সহজেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের ফসলাদি ছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে টমেটো, কাঁচামরিচ, শসা, করলা, বেগুন, রসুন, পেঁয়াজ, ফুল, মসলা জাতীয় ফসল ও সবজি পদ্মা সেতু দিয়ে মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকার বাজারে বিক্রি করে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

মুন্সীগঞ্জকে আলু ও বালুর জন্য বিখ্যাত বলা হয়। কথাটা ভিত্তিহীন নয়, অবশ্যই অর্থবহ। প্রাচীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পদ্মা সেতু হওয়ায় সিরাজদিখান-শ্রীনগর-লৌহজংয়ে দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানা। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে মুন্সীগঞ্জ। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শুধু অর্থনীতিতেই নয়, দেশবাসীর মনোজগতের সমৃদ্ধিতেও অবদান রেখেছেন মুন্সিগ‌ঞ্জের বহু কৃতি সন্তান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: 

বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্রবসু,

সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,

পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর,

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ,

রাজনীতিবিদ চিত্তরঞ্জন দাশ,

সাঁতারু ব্রজেন দাস,

অভিনেতা নারায়ণ চক্রবর্তী,

কবি বুদ্ধদেব বসু,

স্বাধীনতা সংগ্রামী সরোজিনী নায়ডু,

বিপ্লববাদী লেখক জিতেন ঘোষ,

বিপ্লবী সাহিত্যিক সত্যেন সেন,

ওস্তাদ আলাউদ্দিন আলী,

ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ,

অভিনয় শিল্পী টেলি সামাদ,

সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন,

সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন,

চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল,

অভিনেতা আব্দুল কাদের,

শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ,

সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রমুখ।

নান্দনিক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েটির অর্ধেকেরও বেশি মুন্সীগঞ্জের ওপর দিয়েই গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে এত সুন্দর একটি মহাসড়ক হয়েছে নিঃসন্দেহে। এখন মাত্র আধা ঘণ্টায় এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকায় চলে যাচ্ছে। বাড়িতে থেকেও অনেকে ঢাকা গিয়ে অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

মুন্সিগ‌ঞ্জে রয়েছে বাংলার প্রাচীন সভ্যতার বহু নির্শন । তাই এ জেলার  দর্শনীয় স্থানসমূহে নিত্য‌দিনই আসছেন দে‌শ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক।

মুন্সীগঞ্জের উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকা হচ্ছে:

১. নয়াগাঁও বেরিবাধ,

২. জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান,

৩. অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান,

৪. রাজা শ্রীনাথের বাড়ি,

৫. ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি,

৬. রামপালে বাবা আদম মসজিদ,

৭. হাসারার দরগা,

৮. সোনারং জোড়া মন্দির,

৯. পদ্মার চর,

১০. ইদ্রাকপুর কেল্লা,

১১. রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি,

১২. শ্যামসিদ্ধির মঠ,

১৩. শুলপুরের গির্জা,

১৪. মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট,

১৫. ধলেশ্বরী সকার কিংস ক্লাব

১৬. ধলেশ্বরী নদী,

১৭. বিক্রমপুর বিহার,

১৮. রংমেহার ক্লাব,

১৯. পদ্মা সেতু,

২০. নাটেশ্বর দেউলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন,

২১. আড়িয়াল বিল, 

২২. পদ্মার চরজুড়ে পদ্মা রিসোর্ট,  

২৩. সিরাজদিখান উপজেলার হলিডে রিসোর্ট,

২৪. শিমুলিয়ায় ইকোপার্ক,

২৫.দোহারের ‌মৈনট ঘাট প্রভৃতি।

বাংলার অর্থনীতিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ জেলা মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ৩৫০ একর জায়গার ওপর সম্প্রতি গড়ে উঠেছে এক অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে কারখানা স্থাপন করার জন্য চুক্তি করছে যুক্তরাষ্ট্রের হান্টসম্যান করপোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানটি বস্ত্রখাতে ব্যবহার্য রাসায়নিক উৎপাদন করবে যা বর্তমানে চীন, ভারত এবং অন্য কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ইতোমধ্যেই এখানে জাপানের হোন্ডা মোটর করপোরেশনের বড় একটি কারখানা রয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া তুরস্কের হোম অ্যাপ্লায়ান্স জায়ান্ট আরচেলিকসহ আরও বহু কোম্পানির বিনিয়োগের বিষয়টিও পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক জোনটির কর্তৃপক্ষ।

পরিশেষে বলা যায়, ছাপ্পান্না হাজার বর্গমাইলের বাংলার অর্থনীতিতে প্রচীন সভ্যতা ও সমৃদ্ধির নিদর্শন মুন্সিগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষত স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলাদেশের উন্নয়নে মুন্সিগঞ্জের বহুমাত্রিক অবদানকে আরো গতিশীল করবে- এ প্রত্যাশা সকলের। 


লেখক: সোহেল ঢালী

সাংবাদিক, কলামিস্ট।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

রাজস্বখাত থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

প্রকাশিত :  ১৬:১৮, ৩০ মে ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির দুই নেতাকে নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন অভিযোগের একটি বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে এ নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়। 

এর আগে আজ দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মোস্তাক মিয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এ হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’ এ বক্তব্য ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

এ বিষয়ে সাবেক উপদেস্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সকল উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।’

এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি টাকা নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই।’

হাসনাত আরও বলেন, ‘রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

তবে আসিফ ও হাসনাতের বক্ত্যের বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি।