img

প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের শহর পুণ্ড্র রাজধানী বগুড়া

প্রকাশিত :  ০৯:৪৮, ০১ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:১০, ০১ এপ্রিল ২০২৫

প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের শহর পুণ্ড্র রাজধানী বগুড়া
সংগ্রাম দত্ত: মহাস্থানগড়, পুণ্ড্রনগর বঙ্গদেশের প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের  রাজধানী পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ। বর্তমানে এই অঞ্চলটি বাংলাদেশের বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি উত্তরে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। গড় শব্দের অর্থ উচ্চভূমি বা উচ্চভূমির স্তূপ। মহাস্থানের উচ্চস্থান অর্থে মহাস্থান গড় বলা হয়।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫ শতাব্দীর ভিতরে এই নগরীটির বিকাশ ঘটেছিল। গোড়ার দিকে হিন্দু ও বৌদ্ধ শাসকদের দ্বারা এই নগরী বিকশিত হয়েছিল। ধারণা করা হয়  নগরটি মৌর্যদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেই সূত্রে এখানে একটি সমৃদ্ধ জনবসতি গড়ে উঠেছিল । মুসলমানদের শাসনামলের প্রথম থেকেই এই নগরীতে মুসলিম-স্থাপত্যের প্রভাব পড়া শুরু হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ এবং মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন এই নগরীতে প্রচুর পাওয়া যায়।

বগুড়া, প্রাচীন ঐতিহ্য। জেলা শহরের ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিমে অবস্থিত আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রসিদ্ধ নগরী মহাস্থানগড়। যা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের এক নিরব সাক্ষী। বর্তমানে বিস্তীর্ণ এ ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির রাজধানী পুণ্ড্রনগর ছিল।

সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গনগরী পর্যায়ক্রমে মাটি ও ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর-দক্ষিণে ১৫২৫ মিটার দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৩৭০ মিটার প্রশস্ত ও চারপাশ সমতল ভূমি থেকে পাঁচ মিটার উঁচু। বেষ্টনী প্রাচীর ছাড়াও পূর্ব দিকে নদী ও অপর তিনদিকে গভীর পরিখা নগরীর অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়, কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসক বর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সামন্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল। দুর্গের বাইরে উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ৭/৮ কিলোমিটারের মধ্যে এখনও বিভিন্ন ধরনের বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে।

এর আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত। এর চারপাশ প্রায় ৬ মিটার উঁচু প্রতিরক্ষা প্রাচীর দ্বারা ঘেরা। এই প্রাচীরের ভিতরে রয়েছে বেশকিছু স্তূপ। স্থানীয়ভাবে এই স্তূপগুলোকে ভিটা বলা হয়। এই স্তূপ বা ঢিবিগুলো প্রাচীন গৃহস্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। ভিটাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন  নামে অভিহিত হয়ে আসছে বহুদিন ধরে। যেমন বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা ইত্যাদি। এর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শাহ সুলতান মাহীসওয়ারের মাজার এবং মুগল সম্রাট ফররুখ সিয়ার এর একটি মসজিদ আছে। পরে এই মসজিদ ঘিরে একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ পুণ্ডরনগরী ভ্রমণ করেন। কথিত আছে মুসলিম শাসনামলের আগে পরশুরাম নাক একজন অত্যাচারী রাজা এই নগরীর অধিকর্তা ছিলেন। শাহ সুলতাম বলখী এই রাজাকে উৎখাত করে এই নগরী দখল করেন।

ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এই সুরক্ষিত নগরটির উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে একটি গভীর পরিখা ছিল। বর্তমানে উত্তর ও পশ্চিম দিকে এই পরিখা নিদর্শন পাওয়া যায়। দক্ষিণ দিকে পরিখার আংশিক চিহ্ন পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এই পরিখা তৈরি করা হয়েছিল রাজধানী পুণ্ড্রনগরের প্রতিরক্ষার জন্য। সে সময়ে এই নগরীর পূর্ব দিকে তখন করতোয়া নদী প্রবাহিত ছিল। এখানে প্রাপ্ত ব্রাহ্মীলিপিতে উৎকীর্ণ একটি শিলালিপিতে ‘পুণ্ডনগল’ (পুণ্ড্রনগর) উল্লেখ পাওয়া যায়। 

 ইংরেজ শাসনামলে অনেক পর্যটক ও পণ্ডিত ব্যক্তি এই স্থান পরিদর্শন করেন এবং এর ঐতিহাসক গুরুত্বের বিষয় উল্লেখ করেন।  বিশেষত বুকানন হ্যামিলটন, ও’ডোনেল, বেভারীজ ও স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই স্থান পরিদর্শন করেন এবং তাঁদের প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করেন। ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এ ধ্বংসাবশেষকে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ রূপে উল্লেখ করেন স্যার আলেকজান্ডার কানিংহামের। পরবর্তী সময় ১৯২৮-২৯ খ্রিষ্টাব্দে কে.এন দীক্ষিতের তত্ত্বাবধানে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ এ স্থানে প্রথম নিয়মানুগ উৎখনন শুরু করে। প্রাথমিক অবস্থায় এই খননকাজের ক্ষেত্র ছিল মাত্র তিনটি ঢিবি। এই ঢিবিগুলিকে স্থানীয়ভাবে বলা হতো−  বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা এবং মুনির ঘুন। এর বাইর একটি বুরুজসহ পূর্ব প্রাচীরের কিছু অংশ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল। এরপর খননকার্য প্রায় তিন দশক বন্ধ থাকে।

পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকের প্রথম দিকে পুনরায় এর খননকার্য শুরু হয়। এই নব্য প্রচেষ্টায় খননের আওতায় আনা হয়− উত্তর দিকের প্রতিরক্ষা প্রাচীর এলাকা, পরশুরামের প্রাসাদ, মাজার এলাকা, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ডধাপ-সহ কিছু অংশ। এরপর আবার এর খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুদশক পর ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে খননকাজ পুনরায় শুরু হয় এবং ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই একাজ সচল ছিল। এই সময়ের ভিতরে মাজারের নিকটবর্তী এলাকা এবং উত্তর ও পূর্ব দিকের রক্ষা-প্রাচীর সংলগ্ন অংশে গবেষণার কাজ পরিচালিত করা হয়েছিল। এই সময়ের খননকার্যের ফলে নগরটির তিনটি প্রবেশদ্বার, উত্তর ও পূর্ব দিকের রক্ষা-প্রাচীরের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং মাজার এলাকার নিকটে একটি মন্দির-স্থাপনা উন্মোচিত হয়েছে। তিনটি প্রবেশদ্বারের দুটি উত্তর দিকের রক্ষা-প্রাচীরে অবস্থিত। দুর্গের উত্তর-পশ্চিম কোণের ৪৪২ মিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি প্রবেশদ্বার ৫ মিটার প্রশস্ত ও ৫.৮ মিটার দীর্ঘ। অন্যটি ৬.৫ মিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং ১.৬ মিটার প্রশস্ত। ধারণ করা হয়, প্রবেশদ্বার দুটি পালযুগ এবং তার পরেও ব্যবহৃত হয়েছে। পূর্ব দিকের রক্ষা-প্রাচীরের একমাত্র প্রবেশ দ্বারটি প্রায় এর মধ্যস্থলে অবস্থিত। পরশুরামের প্রাসাদের ১০০ মিটার পূর্বে অবস্থিত এই দ্বরাটি প্রায় ৫ মিটার প্রশস্ত। পাল যুগের শেষের দিকে একটি পুরানো প্রবেশদ্বারের ধ্বংসাবশেষের উপর এটি নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই সময়ের সবগুলি প্রবেশদ্বার-স্থাপনার ভেতর দিকে প্রহরি-কক্ষ এবং রক্ষা-প্রাচীরের বাইরে সমপ্রসারিত বুরুজ ছিল। মাজার এলাকায় উন্মোচিত মন্দির-স্থাপনায় কোন সুসঙ্গত নির্মাণ পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায় না। পাল শাসনামলে এটি পাঁচটি পর্যায়ে নির্মিত ও পুননির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। এ এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে কয়েকটি নমুনা হলো−বড় আকারের পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, গোলক, অলঙ্কৃত ইট ও মাটির পাত্র। ধারণা করা হয়, জাহাজঘাটা নগরের রক্ষা-প্রাচীরটি ছয়টি পর্যায়ে নির্মিত হয়েছিল। এর ভিতর সর্বপ্রাচীন পর্যায়টি ছিল, সম্ভবত মৌর্যযুগে। পরবর্তী পর্যায় শুঙ্গ-কুষাণ, গুপ্ত, প্রাথমিক পাল, পরবর্তী পাল ও সুলতানি আমলেও নির্মাণকাজ বা সংস্কার অব্যাহত ছিল। এর অনেক প্রাচীর পর্যায়ক্রমে একটির উপর অন্যটি নির্মিত হয়েছিল। অর্থাৎ এই নির্মাণকাজের একটি ধারাবাহিকতা ছিল। 

এই অঞ্চলের গবেষণার জন্য, ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে বাংলাদেশী ও ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিকদের দল এই অঞ্চলের গবেষণার যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। নতুনভাবে নেওয়া এই উদ্যোগে−  পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা প্রাচীরের মধ্যভাগ সন্নিহিত স্থানে প্রতিবছর প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন কাজ চলতে থাকে। অবশ্য এর আগেই বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সুরক্ষিত নগরের বাইরে ভাসুবিহার, বিহার ধাপ, মঙ্গলকোট ও গোদাইবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে খনন কাজ করেছিল। এর মধ্যে ফ্রান্স-বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক পরিচালিত উৎখনন কার্যক্রমে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮টি নির্মাণ স্তর উন্মোচিত হয়। এখন পর্যন্ত পরিচালিত উৎখননের ফলে যে সকল উপকরণের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো− বিপুল পরিমাণ উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ পাত্র, রুলেটেড পাত্র, কালো ও লাল রঙের পাত্র, কালো প্রলেপযুক্ত পাত্র, ধূসর বর্ণের পাত্র, পাথরের যাঁতা, মাটির তৈরি মেঝেসহ মাটির ঘর (রান্নাঘর), চুলা এবং খুটির গর্ত। ভূমির সর্বনিম্ন স্তরে উত্তরাঞ্চলীয় কালো মসৃণ পাত্র  বেশি পাওয়া গেছে। এসব পাত্রের ভিতর রয়েছে নানা ধরনের থালা, পেয়ালা, গেলাস এবং গামলা ইত্যাদি। এ স্তরে এলাকায় একটি ছোটো ইট বিছানো মেঝে পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেঝের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন দেয়াল পাওয়া যায় নি।

মূলত প্লাইস্টোসিন ভূস্তরের উপর এখানে সর্বপ্রথম বসতি গড়ে উঠেছিল। এর উপরের স্তরের কার্বন-পরীক্ষায় থেকে জানা গেছে− সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষ ভাগ এই অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিল। তার অর্থ দাঁড়ায় এ স্তরের বসতি ছিল প্রাক-মৌর্য যুগে। খননের ফলে এখন পর্যন্ত যে সকল নমুনা পাওয়া গেছে তাদের বয়স এবং খননস্তরের গভীরতার বিচারে যে কালানুক্রমিক ভাগ পাওয়া যায়, তা হলো−

আদি স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতাব্দীর পূর্বকাল
আদি বসতি স্তরে পাওয়া গেছে উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ পাথরের টুকরো এবং নানা ধরনের ব্যবহারিক উপকরণ। এর ভিতরে রয়েছে− উত্তরাঞ্চললীয় কালো মসৃণপাত্র, ঈষৎ লাল বা ঈষৎ হলুদ রঙের সাধারণ পাত্র, ব্রোঞ্জের আয়না, ব্রোঞ্জের প্রদীপ, ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলকচিত্র, সস্তা পাথরের গুটিকা বা পুঁতি এবং পাথরের যাঁতা।
 
দ্বিতীয় স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬৬-১৭৩ অব্দের ভিতরে :
এ যুগে প্রাপ্ত প্রত্নসামগ্রীর মধ্যে অন্যতম নমুনা হলো ভাঙ্গা টালি। সম্ভবত এই টালি ঘরের ছাদে ব্যবহার করা হতো। এই সময়ে মাটির দেয়াল তৈরির জন্য ইটের টুকরা, পোড়ামাটি ব্যবহার করা হতো। এসব উপকরণ দেওয়াল ছাড়াও পাতকুয়াতেও ব্যবহার করা হতো।

তৃতীয় স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৩ অব্দ থেকে ১২২ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে :
এই অঞ্চলে মৌর্যোত্তর যুগে ব্যবহৃত হয়েছে বৃহদায়তনের ও অপেক্ষাকৃত ভাল ইট। এই যুগের নমুনার মধ্যে রয়েছে স্থাপত্যিক ধ্বসাবশেষ, ইট বিছানো মেঝে, খুটির গর্ত, পোড়ামাটির পাতকুয়া, প্রচুর পোড়ামাটির ফলক, সস্তা পাথরের (এ্যাগেট কার্নেলিয়ন, কোয়ার্টজ) পুঁতি, সুর্মা লাগানোর দণ্ড, ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা, রূপার বালা, ঢালাই করা তামার মুদ্রা, পোড়ামাটির মন্দির চৃড়া, ঈষৎ লাল বা হলুদ রঙের প্রচুর পরিমাণ সাধারণ পাত্র (বিশেষত থালা, পেয়ালা, গামলা) এবং ধূসর মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে।
 
চতুর্থ স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব ১১২-৩৬১ অব্দের ভিতরে :
কুষাণ-গুপ্ত যুগের নিদর্শনাদি এই সময় পাওয়া গেছে। এই সময়ের নমুনার মধ্যে রয়েছে মৃৎপাত্রের টুকরা এবং প্রচুর পোড়ামাটির ফলকচিত্র। এযুগের মৃৎপাত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো− খোদাই করা নকশাসহ হাতলওয়ালা রান্নার পাত্র, পিরিচ, গামলা, পিচকারি এবং ঢাকনি। এছাড়া পাওয়া গেছে ভাঙ্গা ইটের টুকরা, পোড়ামাটির গুটিকা বা পুঁতি, গামলা, পাথর এবং কাঁচের গুটিকা বা পুঁতি, কাচের চুড়ি, পোড়ামাটির সিলমোহর। রৌপ্য মুদ্রা স্বল্প মূল্যের পাথুরে পুঁতি।

পঞ্চম স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬১-৫৯৪ অব্দের ভিতরে :
এ যুগের নমুনাসমূহ থেকে  গুপ্ত ও গুপ্তোত্তর যুগের পরিচয় পাওয়া যায়। এই যুগের নমুনার ভিতরে রয়েছে দুর্গ-নগরীর নিকটবর্তী একটি স্তূপ। এই স্তূপটি গোবিন্দ ভিটা নামে পরিচিত। এটি একজটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। মন্দিরটির কাঠামো ইটের তৈরি। এছাড়া নগরে ইটের তৈরি ঘরবাড়ি, মেঝে ও রাস্তার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এইসব স্থাপত্যিক নমুনার মাঝে পাওয়া গেছে পোড়ামাটির ফলক, সিলমোহর, কাঁচ ও প্রায়-মূল্যবান পাথরের গুটিকা বা পুঁতি, পোড়ামাটির গোলক ও চাকতি, তামা ও লোহার দ্রব্য এবং ছাপ দিয়ে নকশা করা পাত্র।
 
ষষ্ঠ স্তর : খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯৪ থেকে পরবর্তী সময়
নগরের পূর্ব দিকে খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ড ধাপ, পরশুরামের প্রাসাদ ও বৈরাগীর ভিটার ন্যায় কয়েকটি বিক্ষিপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাশেষ থেকে ধারণা করা হয়েছে, পালযুগেও এই নগরী সমৃদ্ধ অবস্থাতেই ছিল। এ যুগে নগরের বাইরে বহৃসংখ্যক বৌদ্ধ স্থাপনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মানকালীর কুণ্ডের ধ্বংসাবশেষের ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের তৈরি হয়েছিল। এছাড়া রয়েছে ফররুখ সিয়ার কর্তৃক নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। সম্ভবত মুসলিম শাসনমালে এই অঞ্চলের বহুমন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। এই সময়ে প্রাপ্ত অন্যান্য স্থাপত্যিক নমুনার ভিতরে রয়েছের নগরের অভ্যন্তরভাগে বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ড ঢিবি, পরশুরামের প্রাসাদ ঢিবি ও জীয়ত কুণ্ড প্রভৃতি।
img

চিড়িয়াখানার রাখা হবে সেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ২৮ মে ২০২৬

বহুল আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের সেই অ্যালবিনো মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হবে।

গতকাল বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মিয়া।

তিনি বলেন, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা থেকে এটি সরাসরি জাতীয় চিড়িয়া খানায় নেওয়া হবে। মহিষের মালিক স্বরণকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প থানায় এমন খবর ছড়িয়ে পরায় থানায় ভিড় করেন শিশু-কিশোর, যুবকসহ নানা বয়সী মানুষ। মহিষটিকে ঘিরে জনসমাগম ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় থানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুছ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরার রসুলপুর এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুজ্জামান স্বরন (২৭) গেলো ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ পর নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় অ্যালবিনো মহিষটি কিনে নেন। মহিষটি নারায়ণগঞ্জের ওই ফার্মেই এতদিন লালিত পালিত হচ্ছিলো। ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

বাংলাদেশ এর আরও খবর