img

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, নিখোঁজ ৪১

প্রকাশিত :  ০৬:২৬, ০৭ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে ৮২, নিখোঁজ ৪১

আকস্মিক বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আরও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এখন চলছে উদ্ধারকাজ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে প্রবল বর্ষণের ফলে সেখানকার গুয়াদালুপ নদীর পানি প্রায় নয় মিটার (২৯ ফুট) বেড়ে যায়। এতে আশেপাশের এলাকা তলিয়ে যায়। হঠাৎ ব্যাপক বন্যা হয়। নদীর ধারেই ছিল একটি খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। সেখানে ৭৫০ শিশু অবস্থান করছিল। খবর সিএনএন ও বিবিসির

কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা সাংবাদিকদের জানান, কার কাউন্ট্রিতে ৬৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ২৮ জনই শিশু। শনিবার সকালে বন্যার পানি সরে যেতে শুরু করলে ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৮৫০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও কার কাউন্টিতে উদ্ধার হওয়া ১৮ জন যুবক ও ১০ শিশুর পরিচয় জানা যায়নি।

কার কাউন্টির কাছের শহর কারভিলের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্ট‌ন রাইস জানিয়েছেন, ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ১০ জন শিশু এবং একজন কাউন্সিলর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, টেক্সাসে বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কার কাউন্ট্রিতে ৬৮, ট্রাভিস কাউন্ট্রিতে ৬ জন, বার্নেট কাউন্ট্রিতে ৩ জন, কেনডাল কাউন্ট্রিতে ২ জন, উইলিয়ামসন কাউন্ট্রিতে ২ ও টম গ্রিন কাউন্ট্রিতে একজন মারা যান।

এদিকে জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, কার কাউন্টিতে বন্যার জরুরি অবস্থা মূলত শেষ হয়ে এসেছে। তবে তারা আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে এবং বন্যা পর্যবেক্ষণ চালু আছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই অঞ্চলে আরও ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া বন্যার কারণে অনেক স্থানে ধ্বংসাবশেষ ও ব্যাপক কাদার কারণে উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এমনকি তাদের বিষধর সাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

টানা তিনদিনের বন্যার পর টেক্সাসের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। কেরি কান্ট্রিতে ১৮ জন প্রাপ্ত বয়স্কো এবং ১০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। 

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গতকাল রোববার বলেছেন, প্রত্যেক নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।

ডাল্ট‌ন রাইস বলেন, উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সহায়তার জন্য এক হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে আছেন। এতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু মানুষকে গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সহায়তার জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের গার্ডের হেলিকপ্টারও এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কের এলাকায় ১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। এটি এলাকাটিতে বছরে মোট বৃষ্টির তিন ভাগের এক ভাগ।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় তিনি এ ক্ষমা লাভ করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরে দলীয় শত শত সমর্থকও তাকে অভ্যর্থনা জানান।

বিমানবন্দরে পৌঁছে হার্নান্দেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি আরেকটি ফ্লাইটে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী আনা গার্সিয়া ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরার কাছে পরাজিত হন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আগামী ৩ আগস্ট প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়, ফলে দেশে ফেরার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সি হার্নান্দেজ বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজের আবেদন করবেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, নিজের দেশে ফেরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি দিন গুনছিলাম।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে কাটানো সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। আমি এমন অভিজ্ঞতা কারও জন্য কামনা করি না।

হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন তাকে তেগুসিগালপায় গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, ‘প্যান্ডোরা টু’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের একটি অংশ তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।

তবে একই তদন্তে জড়িত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যে খারিজ করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হার্নান্দেজ বলেন, তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। তবে আপাতত সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তাদের পাশে থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর