img

শ্রীমঙ্গলে কারাম উৎসব: নৃত্য, সুর ও সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মিলনমেলা

প্রকাশিত :  ০৮:৪৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রঙ, সুর ও আনন্দে মোড়ানো এক দিনের উৎসব

শ্রীমঙ্গলে কারাম উৎসব: নৃত্য, সুর ও সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মিলনমেলা

সংগ্রাম দত্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াছড়া মাঠে রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক অপূর্ব রঙে-আলোয় ভরে উঠেছিল। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব কারাম পূজা যেন মিলনমেলার রূপ নিয়েছিল।

রঙিন শাড়ি, ফুলে সাজানো চুল, মাথায় ঝুড়ি আর তালমেলায় নাচ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য আবহ, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

ফসল, উর্বরতা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক:

কারাম উৎসব মূলত ফসল, উর্বরতা এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। এই দিনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষজন একত্রিত হয়ে নৃত্য ও গান দিয়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেন। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; বরং তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও অস্তিত্বের উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।

ঝুড়ি উঁচু, পদধ্বনি ছন্দময়:

কালিঘাট চা বাগানের মাঠে তরুণীরা দলবদ্ধভাবে নাচতে নাচতে মাথার ওপরে তুলেছিলেন কারাম গাছ সাজানো ঝুড়ি। ঢোল, করতাল ও লোকগানের ছন্দে তাদের পায়ের প্রতিটি ঝংকার যেন দর্শকদের মন দুলিয়ে তুলেছিল। মুহূর্তের জন্যও কেউ চোখ সরাতে পারেনি এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য থেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য: ঐতিহ্য রক্ষা আমাদের দায়িত্ব:

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “কারাম উৎসব শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মূলধারা। এই ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ সব সময় তাদের সহযোগিতা করবে।”

সকলের মিলনমেলা, আনন্দে ভরা দিন:

উৎসবটি আয়োজন করে কারাম উৎসব উদযাপন কমিটি, সহযোগিতায় ছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। দিনভর চলা এই আয়োজনের মধ্যে এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি—সকলেই মেতে ওঠেন আনন্দে।

কারাম পূজা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক, যা মাঠের চারপাশ থেকে প্রত্যেকের হৃদয়ে প্রাণোচ্ছলতা ছড়িয়ে দেয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী’

প্রকাশিত :  ১৬:১২, ২৯ মে ২০২৬

কমলগঞ্জের খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শনে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে ফুলেল সংবর্ধনা ও শুভ

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে তিনি পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের চেয়ারপার্সন পিডিশন প্রধান সুছিয়াং। এ সময় খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জির প্রধান (মান্রী), প্রতিনিধি এবং আদিবাসী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কমলগঞ্জের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সেখানে মণিপুরী, চাকমা, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী। এ দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণীয়। “বিএনপি সরকারই দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর