img

আড়াই শ' শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১হাজার অতিথির উপস্থিতিতে টাওয়ার হ্যামলেটস এডুকেশন অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৫:৪৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আড়াই শ' শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১হাজার অতিথির উপস্থিতিতে টাওয়ার হ্যামলেটস এডুকেশন অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত
আজ আমরা শুধু শিক্ষাগত কৃতিত্ব নয়, তরুণদের উদ্যমতা, সৃজনশীলতা ও উদারতাকেও স্বীকৃতি দিচ্ছি: মেয়র লুৎফুর রহমান

টাওয়ার হ্যামলেটস এডুকেশন এওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৭ শে সেপ্টেম্বর, শনিবার। এতে বারার বিভিন্ন স্কুলের ২শ ৪৮ জন শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই এওয়ার্ডের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষার্থীদের স্কুল জীবনের সাফল্য বা অর্জন, একনিষ্ঠতা, প্রতিভার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এওয়ার্ডের জন্য নিজ নিজ স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মনোনীত করা হয়।  

এওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে তরুণ মেধাবীদের সম্মান জানাতে এবং তাদের অর্জিত সাফল্য উদযাপন করতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিশেষ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় হাজার।

এডুকেশন এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে চুড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট এবং ৫০ পাউন্ডের ভাউচার তুলে দেন টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান।


টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এখন তাদের দ্বিতীয় বছরে, আমাদের বারার ক্যালেন্ডারে এডুকেশন এওয়ার্ড আমার প্রিয় মুহুর্তগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে। আজকে আমরা শুধু শিক্ষাগত অর্জনকে বা কৃতিত্বকেই মূল্যায়ন করছিনা বরং আমরা আমাদের তরুনদের সত্যিকার অর্থে অনুপ্রেরণাদায়ক করে তোলে এমন উদ্যমতা, সৃজনশীলতা এবং উদারতাকে আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি।”

মেয়র বলেন, “মনোনীত প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের স্কুল, তাদের পরিবার এবং তথা সমগ্র টাওয়ার হ্যামলেটসের জন্যে সম্মান বয়ে এনেছেন।”

এতে এডুকেশন কেবিনেট মেম্বার এবং ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ূম তালুকদার ও চিলড্রেন্স সার্ভিসেস এর কর্পোরেট ডিরেক্টর স্টিভ রেডি এবং অনুষ্ঠানের স্পন্সর আইকন কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডক্টর নুরুন নবীসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।


ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ূম তালুকদার বলেছেন, “এই এওয়ার্ডে নেতৃত্ব এবং টিমওয়ার্ক শুরু করে সততা এবং উদ্ভাবনীসহ আমাদের শিক্ষার্থীদের ভিন্নমাত্রার শক্তিশালী গুণ বা প্রতিভার প্রতিফলন দেখা যায়। কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত তাদের কৃতিত্বকে উদযাপন করা এবং তাদের এই কষ্টার্জিত সাফল্যের পেছনে তাদের স্কুল এবং পরিবারের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ একটি ব্যাপার। এর মাধ্যমে মূলত সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসের সুন্দর একটি ভবিষ্যত রচনা করছি।”

চিলড্রেন্স সার্ভিসেস এর কর্পোরেট ডিরেক্টর স্টিভ রেড্ডি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস এডুকেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫—এ যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আজকের এই আয়োজন আমাদের তরুণ প্রজন্মের অসাধারণ অর্জনকে উদযাপন করছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁদের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং স্কুল ও কমিউনিটিতে ইতিবাচক অবদানের জন্য সম্মানিত হচ্ছে।”


তিনি আরও বলেন, “এই বছর ২৭টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পুরস্কার পাচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবার, শিক্ষক ও মেন্টরদের অবদানের স্বীকৃতিও জানানো হচ্ছে। এডুকেশন এওয়ার্ড ২০২৫ আমাদের টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রাণবন্ত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সম্ভাবনাময় চেতনার প্রতিফলন।”

তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারাই এই বরোর ভবিষ্যৎ। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আপনাদের পরবর্তী যাত্রা দেখার জন্য।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি ইয়ং মেয়র এবং এ বছর এডুকেশন এওয়ার্ডের কো-হোস্ট বা সহকারী উপস্থাপক রোচেল লিউইস গ্যারি বলেন, “শিক্ষা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক নানা কর্মকান্ডে আমাদের তরুনদের সাফল্য উদযাপন করতে পেরে টাওয়ার হ্যামলেটস গর্বিত। একজন ইয়ং ডেপুটি মেয়র হিসেবে আমি এমন একটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে সম্মানিত যারা পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে, নতুন ধারণা আনতে এবং আমাদের বারোকে বসবাস ও শেখার জন্য আরও ভালো জায়গা করে তুলতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।”

এওয়ার্ডের জন্য বারার ভেতরে লোকাল অথোরিটি অর্থাৎস্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত, স্বাধীন এবং বিশেষ স্কুল অথবা কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শিক্ষার্থীকে মনোনয়নের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যারা তাদের জিসিএসই, এ—লেভেল কিংবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্যে মনোনয়ন উন্মুক্ত ছিল।


পরিপূর্ণ অর্থে সাফল্য উদযাপন : 

মনোনয়নগুলিতে বিভিন্ন মানদন্ড প্রতিফলিত হয়েছে, বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে তরুনরা তাদের স্কুল এবং বৃহত্তর কমিউনিটিতে অবদান রেখেছেন। এওয়ার্ডে শুধু শিক্ষাগত কৃতিত্বকেই মূল্যায়ন করা হয়নি, বরং

- ব্যক্তিগত এবং শিক্ষাগত গুনাবলি: শিক্ষাগত কৃতিত্ব, শিক্ষাগত কৌতূহল, স্থিতিস্থাপকতা

- নেতৃত্ব এবং সহযোগিতা: নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সততা

- সৃজনশীল এবং সামাজিক অবদান: সৃজনশীলতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা, স্কুলের অবদান

পুরষ্কার বিতরণীর পাশাপাশি, দিনটিতে বক্তব্য, পরিবেশনা, একটি ভিডিও এবং ইন্টারেক্টিভ এক্টিভিটিজের আয়োজন করা হয়, যেখানে তরুণরা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং পরিবেশনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।


শিশু এবং তরুণদের জন্য চলমান বিনিয়োগ : 

এডুকেশন এওয়ার্ড টাওয়ার হ্যামলেটসের শিশু এবং তরুণদের শিক্ষাগত যাত্রায় বৃহত্তর সহায়তা এবং বিনিয়োগের অংশ।

কাউন্সিলের ইয়ূথ সার্ভিস, “ইয়ং টাওয়ার হ্যামলেটস“ এ কাউন্সিল ১৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে, যা বারার ইয়ূথ সেন্টারগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় ইয়ংদের জন্যে বিনামূল্যে ১শটির মত এক্টিভিটিজ বা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দেশের প্রথম লোকাল অথোরিটি যেখানে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারী স্কুলের সব শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করেছে, যার ফলে পরিবারগুলোর শিশু প্রতি বছরে গড়ে ৫৫০ পাউন্ড সাশ্রয় হচ্ছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকে, সেকেন্ডারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় দুই মিলিয়ন অতিরিক্ত ফ্রি মিল সরবরাহ করা হয়েছে।

এ বছর, কাউন্সিল স্কুল ক্লোিদং গ্র্যান্টও চালু করেছে, যে পরিবারে বছরে সর্বোচ্চ আয় ৫০,৩৫০ পাউন্ড সেই পরিবারের সন্তান যারা প্রথমবারের মতো প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারী শুরু করেছে তারা রিসিপশন ইয়ারের শিক্ষার্থীর জন্যে ৫০ পাউন্ড এবং ইয়ার সেভেন ইয়ারের শিক্ষার্থীর জন্য ১৫০ পাউন্ড স্কুল ইউনিফর্ম ও পোষাক ক্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জমকালো সমাপ্তি

প্রকাশিত :  ১০:৩০, ০৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৯, ০৮ জুন ২০২৬

নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, লন্ডন: সার্বিকভাবে সফল ও সুন্দর একটি চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হলো সম্প্রতি। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের BLOC-এ বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমে পর্দা নামলো ২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। 

বিভিন্ন দেশের নান্দনিক ও জনপ্রিয় সিনেমা লন্ডনের দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল রেইনবো সোসাইটি। দেশীয় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কৃতির সুউপাদানসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এবারে অনুষ্ঠিত হলো ২৭তম রেইনবো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। বহু মাত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজের উপযোগী চলচ্চিত্রগুলো উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

প্রতিটি প্রদর্শনীতে দর্শকদের  বিপুল সাড়া ছিল। উদ্বোধনী এবং সমাপনী দিনে দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শিত ছবি ছিল হাউজফুল। ২৩শে  মে রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী দিনে ভারতীয় বাংলা ভাষার নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র 'স্বার্থপর' প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি  পরিচালনা করেছেন অন্নপূর্ণা বসু। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোয়েল মল্লিক, কৌশিক সেন এবং রঞ্জিত মল্লিক। চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ছিল বাস্তবধর্মী পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্পত্তি নিয়ে। গল্পটি মূলত ভাই-বোনের নিপাট ভালোবাসার সম্পর্ক এবং পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে। অধিকার বনাম আত্মসম্মান:- ছোটবেলার স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটে থেকে বোন অপর্ণাকে তার অনুমতি ছাড়াই বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয় দাদা সৌরভ। কিন্তু বিয়ের পর আলাদা সংসারে থেকেও অপর্ণা নিজের পৈতৃক অধিকার ছাড়তে নারাজ। ছবিটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে সমাজের চিরাচরিত নিয়মে নারীদের সম্পত্তি বা পারিবারিক সিদ্ধান্তে কোণঠাসা করে রাখা হয় এবং অপর্ণা চরিত্রটি তার অধিকারবোধ ও আত্মসম্মানের জন্য লড়াই করে।

২২শে মে প্রদর্শিত ‘গৃহ প্রবেশ’ সিনেমাটিও দর্শকদের বাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত একটি আবেগঘন ও মনস্তাত্ত্বিক বাংলা পারিবারিক নাট্য চলচ্চিত্র, যা কিংবদন্তি পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রতি উৎসর্গীকৃত। গল্পের নায়িকা তিতলির (শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়) বিয়ের পর তার স্বামী শাওন কাজের সূত্রে বিদেশে চলে যায় এবং তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ থাকে না। স্বামী-পরিত্যক্তা তিতলি শ্বশুর-শাশুড়ির আশ্রয়ে থেকে সেই বিশাল বাড়ির অভিভাবক হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে বাড়ির শূন্যতা ও একাকীত্ব ঘোচাতে তিতলি সেই বাড়িতে একটি পেয়িং গেস্টের ব্যবস্থা করে। মেঘদূত (জিতু কামাল) নামে এক রহস্যময় অতিথি সেই বাড়িতে এসে ওঠে। মেঘদূতের আগমনের পর তিতলির জীবনে ধীরে ধীরে নতুন অনুভূতির জোয়ার আসে।  তবে গল্পটি শুধু প্রেম বা সম্পর্কের ত্রিকোণ নয়, বরং এটি অপেক্ষা, আত্মপরিচয়, যৌনতা এবং সম্পর্কের বহুমুখী টানাপড়েনের এক গভীর বিশ্লেষণ।

১৮ই মে প্রদর্শিত হয়েছে বাংলাদেশের ছায়াছবি  ‘নয়া মানুষ’। মূলত: নদীর চরে বসবাসরত বানভাসি ও প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখ এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের লড়াইয়ের গল্প। আ. মা. ম. হাসানুজ্জামানের 'বেদনার বালুচর' গল্পের ওপর ভিত্তি করে মাসুম রেজার চিত্রনাট্যে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র। নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভাসতে ভাসতে মানুষ এক চর থেকে অন্য চরে আশ্রয় নেয়। চরের এই প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার সংগ্রামই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। নদীর চরে যখন নতুন কোনো মানুষ আসে, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে কী ধরনের সংকট, কৌতূহল এবং পরিবর্তনের সৃষ্টি হয়—তা চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চরের বিচ্ছিন্ন জীবনের মাঝেও মানুষের আত্মিক সম্পর্ক, মানবিক দায়বদ্ধতা ও বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা গল্পটিতে ফুটে উঠেছে। অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ ও রওনক হাসান।

জোবায়দুর রহমান পরিচালিত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র 'উড়াল' প্রদর্শিত হয়েছে ২০শে মে। এটি মূলত: একদল তরুণের যাপিত জীবন, প্রেম, তীব্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, অনার কিলিং, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অবিচার ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তাদের প্রাণান্ত সংগ্রামের গল্প। সম্পর্কের জেরে পারিবারিক পরিমণ্ডলে অনার কিলিং (পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যার ঘটনা)-এর মতো সংবেদনশীল বিষয় এর মূল উপজীব্য। একটি মর্মান্তিক হত্যা ও বিচারহীনতার করুণ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমার মূল প্লট। 

উদ্বোধনী দিনে ১৭ই মে জেনেসিস সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে বাংলাদেশের ছায়াছবি ‘আগন্তুক’। গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনার সাথে পরিচালনা করেছেন সুমন ধর। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং শ্যামল মওলা। সিনেমাটির মূল কাহিনি গড়ে উঠেছে একজন মুখোশধারী সাইকোলজিক্যাল সিরিয়াল কিলারকে ঘিরে, যে ‘ইতি’ নামের মেয়েদের টার্গেট করে একের পর এক খুন করে। পূজা চেরি একজন প্রাণোচ্ছল তরুণ সাংবাদিক। এই সিরিয়াল কিলিংয়ের রহস্য উদঘাটনের জন্য যখন তিনি গোপনে অনুসন্ধান চালাতে শুরু করেন, তখন নিজের অজান্তেই সেই ভয়ংকর খুনির ফাঁদে পা দিতে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ই মে রবিবার পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক জেনেসিস সিনেমা হলে উদ্বোধন হয়েছিল সপ্তাহব্যাপী রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। ২৭ তম এবারের এই উৎসবে প্রায় দশটি দেশের ৪০ টির বেশী চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, সাউথ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, তাজাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, চীন, ইরান, আরমেনিয়া এবং ইউক্রেন। চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে। তা হলো: ‘আগন্তুক’, ‘নয়া মানুষ’, ‘উড়াল’, ‘নয়া নোট’, ‘দ্য স্টোরি অফ এ রক (বাংলা)’, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাংখারপুল’ (বাংলা)। ভারতের বাংলা সিনেমাগুলো হলো: ‘যত কাণ্ড কলকাতায়’, ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘স্বার্থপর’, ‘অংক কি কঠিন’, ‘রাগু ডাকাত’ এবং ‘বিজয় নগরীর হীরে’।  

ইরানের ‘They loved me’, ‘Gageriev’, ‘He does not sleep’, ‘Whispar my name’. রাশিয়ার ‘The Mystery of black hand’. চায়নার ‘The shore of life’. সাউথ কোরিয়ার Drained by dream’. কিরগিজস্তানের ‘Zhara’ এবং ‘KURAK’. তাজাকিস্তানের ‘Mohi Dar’. ফিলিপাইনের ‘Republika ng Pipolipinas’. এছাড়াও অনেকগুলো শর্ট ফিল্ম প্রদর্শিত হয়েছে। প্রতিটি সিনেমায় ইংলিশ সাব টাইটেল ছিল। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন প্রতিটি সিনে

রেইনবো সোসাইটির কর্ণধার উৎসব পরিচালক মি. মোস্তফা কামাল প্রতিবারের মত এবারও দর্শকদের বিপুল সাড়া পেয়েছেন উল্লেখ করে আগামী বছর রেইনবো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এর ২৮তম আসর আরো জাঁকজমক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বরাবরের মত এবারও চলচ্চিত্র উৎসবের সংবাদ ভালভাবে তুলে ধরার জন্য সত্যবাণী অনলাইন পোর্টাল ও অন্যান্য মিডিয়াকে এবং যারা সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান। সমাপনী দিনে পুরো সপ্তাহব্যাপী চলা চলচ্চিত্র নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিদিন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের বিভিন্ন আশাব্যঞ্জক মন্তব্য তুলে ধরেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বুলবুল হাসান, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের BLOC-এর মি. রুপার্ট ড্যানরয়থার। ট্রেইনি পরিচালক সামির কামালও চলচ্চিত্র উৎসব সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত  করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বছর প্রয়াত রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির ট্রাস্টি মিস জয়স্রী কবিরকে স্মরণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান “আনন্দলোকে” দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয় এবং পুরো দর্শকও গানে অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। সফল এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে, রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব লন্ডনে বহুসাংস্কৃতিক চলচ্চিত্র, শিল্পচর্চা এবং কমিউনিটি সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর